বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি আজ সোমবার রাতে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বর্তমান ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরও হ্রাস পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা কমানোর বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তাঁর ভাষায়, আলোচনার মাধ্যমে শুল্কহার আরও নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং চুক্তি সইয়ের পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও জানান, চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয় রাখা হয়নি এবং উভয় দেশের সম্মতিতে চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
আগে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তাঁরা সফর বাতিল করেছেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তাঁরা ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
চুক্তি সই উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন ডিসিতে পৌঁছেছে। দলে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমিয়েসন গ্রিয়ার। ঢাকায় স্বাক্ষর করা কপিটি ইতিমধ্যে প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যার আওতায় শুরুতে বাংলাদেশের জন্য হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরবর্তীতে কয়েক দফা আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক কমে বর্তমানে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগের শুল্কসহ বাংলাদেশি পণ্যে মোট শুল্ক এখন প্রায় ৩৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, তুলা, জ্বালানি ও উড়োজাহাজ সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি বাড়িয়েছে।




