মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে রাজস্বসংক্রান্ত পাঁচটি আইনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাধারণত মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হলেও আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হওয়ায় সময় পরিবর্তন করে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮৬ ও অনুচ্ছেদ ৮৭ অনুযায়ী এ অধ্যাদেশ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতির অংশ এবং গত ২ জুন থেকে এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর), ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত খসড়াগুলোর মধ্যে রয়েছে– মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৬; অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর)-২০২৬, অর্থসংক্রান্ত কতিপয় (সংশোধন) (২০২৫-২৬ অর্থবছর) আইন-২০২৬, আবগারি ও লবণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬
এবং অর্থসংক্রান্ত কতিপয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬।
‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এর খসড়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে অব্যাহতির সংস্কৃতি পরিহারপূর্বক ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি, হ্রাসকৃত হার ক্রমান্বয়ে সংকোচনপূর্বক আদর্শ হারে উন্নীতকরণ, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’ সংশোধন করে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুদ্ধ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়। গত বছরের ৯ জানুয়ারি থেকে এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে। আইনে পরিণত করার জন্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
‘অর্থ আইন (২০২৫-২৬ অর্থবছর), ২০২৬’ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান নাসিমুল গনি। দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ এর খসড়া অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট, ১৯৪৪ সংশোধনের
উদ্দেশ্যে দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৫ গত বছরের ৯ জানুয়ারি জারি করা হয়। সেই থেকে এ অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে।






