Dhaka ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

এক চোখ অন্ধ, অন্য চোখেও কম দেখেন; অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই ৯১ বছরের ইউনুছ মিয়ার

বয়স ৯১ বছর। জীবনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও থামেনি উপার্জনের চেষ্টা। চোখের এক পাশের দৃষ্টি পুরোপুরি হারিয়েছেন, অন্য চোখেও খুব কম দেখতে পান। শরীরও আগের মতো শক্তিশালী নয়। তারপরও প্রতিদিন বাদামের ঝুড়ি নিয়ে স্কুলের সামনে বসেন ইউনুছ মাদবর।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ গ্রামের বাসিন্দা ইউনুছ। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ৮০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করছেন তিনি। শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে বার্ধক্যেও একই পেশাকে আঁকড়ে আছেন এই প্রবীণ।

ইউনুছের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক সক্ষমতা কমেছে। এক চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন। ফলে বাদাম বিক্রির কাজ করাও তার জন্য এখন বেশ কষ্টকর।

তবে সংসারের প্রয়োজন তাকে থামতে দেয় না। অসুস্থ স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে তার সংসার। বয়সের পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন স্ত্রীও। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাদের। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে নিয়মিতভাবে পাশে না থাকায় অনেকটা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাকে।

প্রতিদিন স্কুলের সামনে বসে বাদাম বিক্রি করে যে অর্থ আয় হয়, সেটিই তাদের সংসারের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আয় খুব বেশি না হলেও খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে সেই টাকাই কাজে লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইউনুছকে বাদাম বিক্রি করতে দেখে আসছেন অনেকে। কয়েক প্রজন্ম ধরে স্কুলের সামনে তার উপস্থিতি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। বয়সের কারণে এখন কাজ করতে তার কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে নিয়মিত বসেন তিনি।

ইউনুছের জীবনের গল্প শুধু একজন বাদাম বিক্রেতার গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও আত্মনির্ভরতার এক প্রতিচ্ছবি। বয়স তাকে দুর্বল করেছে, দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছা এখনো হারিয়ে যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, গলা-মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত; আটক ৩

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, জীবনের শেষ সময়ে এই প্রবীণের পাশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে তার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে সহায়তা পেলে বাকি সময়টা কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

এক চোখ অন্ধ, অন্য চোখেও কম দেখেন; অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই ৯১ বছরের ইউনুছ মিয়ার

Update Time : ০১:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বয়স ৯১ বছর। জীবনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও থামেনি উপার্জনের চেষ্টা। চোখের এক পাশের দৃষ্টি পুরোপুরি হারিয়েছেন, অন্য চোখেও খুব কম দেখতে পান। শরীরও আগের মতো শক্তিশালী নয়। তারপরও প্রতিদিন বাদামের ঝুড়ি নিয়ে স্কুলের সামনে বসেন ইউনুছ মাদবর।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ গ্রামের বাসিন্দা ইউনুছ। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় ৮০ বছর ধরে বাদাম বিক্রি করছেন তিনি। শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে বার্ধক্যেও একই পেশাকে আঁকড়ে আছেন এই প্রবীণ।

ইউনুছের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক সক্ষমতা কমেছে। এক চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য চোখেও ঝাপসা দেখেন। ফলে বাদাম বিক্রির কাজ করাও তার জন্য এখন বেশ কষ্টকর।

তবে সংসারের প্রয়োজন তাকে থামতে দেয় না। অসুস্থ স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে তার সংসার। বয়সের পাশাপাশি নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন স্ত্রীও। এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাদের। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে নিয়মিতভাবে পাশে না থাকায় অনেকটা একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাকে।

প্রতিদিন স্কুলের সামনে বসে বাদাম বিক্রি করে যে অর্থ আয় হয়, সেটিই তাদের সংসারের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। আয় খুব বেশি না হলেও খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে সেই টাকাই কাজে লাগে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোটবেলা থেকেই ইউনুছকে বাদাম বিক্রি করতে দেখে আসছেন অনেকে। কয়েক প্রজন্ম ধরে স্কুলের সামনে তার উপস্থিতি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে। বয়সের কারণে এখন কাজ করতে তার কষ্ট হলেও জীবিকার তাগিদে নিয়মিত বসেন তিনি।

ইউনুছের জীবনের গল্প শুধু একজন বাদাম বিক্রেতার গল্প নয়; এটি দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও আত্মনির্ভরতার এক প্রতিচ্ছবি। বয়স তাকে দুর্বল করেছে, দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছে, কিন্তু পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছা এখনো হারিয়ে যায়নি।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই আপন আত্মীয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, জীবনের শেষ সময়ে এই প্রবীণের পাশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে তার চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে সহায়তা পেলে বাকি সময়টা কিছুটা স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন তিনি।