Dhaka ০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’: কুমিল্লায় ডা. শফিকুর রহমান

‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’—এমন স্লোগান তুলে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যজোটের রোড মার্চের বহর দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে আবাসিক পর্যায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জনগণের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস দিয়ে জনগণের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাত্রা আরও জোরদার করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পেলে তার প্রভাব শুধু ঘরবাড়িতে নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও পড়ে। তাই সংকটকে দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের মানুষ কষ্টে থাকলে রাজপথে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার কথাও জানান তিনি।

পথসভাকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। হাজার হাজার নেতা-কর্মী বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। তাঁদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

রোড মার্চের দীর্ঘ গাড়িবহর দাউদকান্দি মহাসড়ক এলাকায় পৌঁছালে সেখানে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  দেশের ছয় অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কবার্তা

বক্তব্যের সময় ডা. শফিকুর রহমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত না করে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারে না।

পথসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান তুলে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

স্থানীয় নেতারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে তাঁরা দাবি করেন।

পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের রোড মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে দাউদকান্দি এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে গাড়িবহরের সঙ্গে এগিয়ে যান।

রোড মার্চকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি মহাসড়ক এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপও তৈরি হয়। পরে গাড়িবহর এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্ত্রীর কিডনি দানে নতুন জীবন পেলেন স্বামী, ভালোবাসার কাছে হার মানল মৃত্যুর ভয়

‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’: কুমিল্লায় ডা. শফিকুর রহমান

Update Time : ০৪:২৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’—এমন স্লোগান তুলে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্যজোটের রোড মার্চের বহর দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এ পথসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চায়। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে আবাসিক পর্যায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জনগণের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু আশ্বাস দিয়ে জনগণের সমস্যা সমাধান করা যাবে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে আন্দোলনের মাত্রা আরও জোরদার করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সরকারের দায়িত্ব। মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পেলে তার প্রভাব শুধু ঘরবাড়িতে নয়, দেশের অর্থনীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও পড়ে। তাই সংকটকে দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় তিনি বলেন, দেশের মানুষ কষ্টে থাকলে রাজপথে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। জনগণের দাবি ও অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার কথাও জানান তিনি।

পথসভাকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। হাজার হাজার নেতা-কর্মী বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। তাঁদের স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

রোড মার্চের দীর্ঘ গাড়িবহর দাউদকান্দি মহাসড়ক এলাকায় পৌঁছালে সেখানে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  সনদ মেনে দায়মুক্তি দেবে সরকার 

বক্তব্যের সময় ডা. শফিকুর রহমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত না করে কোনো সরকারই দীর্ঘদিন মানুষের আস্থা ধরে রাখতে পারে না।

পথসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নয়তো গদি ছেড়ে দে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান তুলে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

স্থানীয় নেতারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান না হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়তে পারে বলে তাঁরা দাবি করেন।

পথসভা শেষে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের রোড মার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে দাউদকান্দি এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে গাড়িবহরের সঙ্গে এগিয়ে যান।

রোড মার্চকে কেন্দ্র করে দাউদকান্দি মহাসড়ক এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মানুষের ভিড় ও যানবাহনের চাপও তৈরি হয়। পরে গাড়িবহর এলাকা ছেড়ে চট্টগ্রামের দিকে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।