Dhaka ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

ডেঙ্গুতে প্রসূতির মৃত্যু, মারা গেল গর্ভের সন্তানও

আর কয়দিন পরই নতুন অতিথি আসবে ঘরে। আনন্দ আর ধরে না তাদের। এজন্য প্রস্তুতিও চলছিল জোরেশোরে। নতুন একটা বাসায় উঠেছিলেন মিঠুন-অর্পিতা দম্পতি। প্রথম মা হওয়ার ইচ্ছাপূরণের একেবারে কাছাকাছি চলে আসছিলেন অর্পিতা দাশ। ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সেই খুশিতে হারিয়ে যাওয়ার আগেই জীবন থেকে বিদায় নিতে হলো অর্পিতাকে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন অর্পিতা। মায়ের মৃত্যুর পর পর মৃত পুত্র সন্তান প্রসব হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্তান জন্মদানের এক মাস পর ডেঙ্গুতে মারা যান রাশেদা বেগম রিমা নামে এক নারী।

একসাথে স্ত্রী ও সদ্যজাত সন্তানকে হারিয়ে মিঠুন চৌধুরী পাগলপ্রায়। হাসপাতালে মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদছেন তিনি। এই কয়দিন কত না যুদ্ধ গেছে তার। শুধু স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে ছুটেছেন এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল। কিন্তু শেষপর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুনকে হার মানতে হয়েছে। শুক্রবার রাতে বলুয়ার দিঘি মহাশশ্মানে নিজহাতে স্ত্রী ও ছেলের সৎকার করেছেন।গত বছরের ১৬ অক্টোবর বিয়ে করেছিলেন এই দম্পতি। সন্তানের জন্মদানের সম্ভাব্য সময় ছিল আগামী ১২ অক্টোবর। আস্তে আস্তে সেই পথেই এগোচ্ছিল সবকিছু। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে জ্বর হয় অর্পিতার। পরে ৭ সেপ্টেম্বর মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অর্পিতাকে

অর্পিতার পিসি শিউলি চৌধুরী বলেছেন, ‘৬ তারিখ অর্পিতার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এর পর হাসপাতালে ভর্তি করায়। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে এইচডিইউতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ডাক্তার বললেন— আইসিইউ দরকার। তখন তাকে নিয়ে প্রথমে রয়েল হাসপাতালে যাই। এর পর রয়েলের ডাক্তার বললেন তাড়াতাড়ি মেডিকেল ভর্তি করাতে। মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর সারারাত আইসিইউতে ছিল।’

এর মধ্যে রাতেই চমেক হাসপাতালের আইসিইউ চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই তাকে রক্তের প্লাটিলেট দেওয়া হয়। আজ সকালেও রক্ত দেওয়ার জন্য অনেকগুলো ডোনার প্রস্তুত করেছিল পরিবার। মিঠুন কেবল প্রার্থনা করছিলেন ঈশ্বরের কাছে যাতে স্ত্রী যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিনের অনশন

‘অনেক চেষ্টা অনেক প্রার্থনা। ডাক্তার বললেন তার ডেঙ্গু এক্সপান্ড সিনড্রম। আজ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে অর্পিতা মারা যায়। পরপর তার বাচ্চা প্রসব হয়। খুব আশা ছিল মেয়েটার একটা ছেলে সন্তান হবে। ছেলেই হলো। কিন্তু মায়ের সঙ্গে ছেলেটিও না ফেরার দেশে’— বলছিলেন শিউলি চৌধুরী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্ত্রীর কিডনি দানে নতুন জীবন পেলেন স্বামী, ভালোবাসার কাছে হার মানল মৃত্যুর ভয়

ডেঙ্গুতে প্রসূতির মৃত্যু, মারা গেল গর্ভের সন্তানও

Update Time : ০৪:১৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর কয়দিন পরই নতুন অতিথি আসবে ঘরে। আনন্দ আর ধরে না তাদের। এজন্য প্রস্তুতিও চলছিল জোরেশোরে। নতুন একটা বাসায় উঠেছিলেন মিঠুন-অর্পিতা দম্পতি। প্রথম মা হওয়ার ইচ্ছাপূরণের একেবারে কাছাকাছি চলে আসছিলেন অর্পিতা দাশ। ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। সেই খুশিতে হারিয়ে যাওয়ার আগেই জীবন থেকে বিদায় নিতে হলো অর্পিতাকে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন অর্পিতা। মায়ের মৃত্যুর পর পর মৃত পুত্র সন্তান প্রসব হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্তান জন্মদানের এক মাস পর ডেঙ্গুতে মারা যান রাশেদা বেগম রিমা নামে এক নারী।

একসাথে স্ত্রী ও সদ্যজাত সন্তানকে হারিয়ে মিঠুন চৌধুরী পাগলপ্রায়। হাসপাতালে মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদছেন তিনি। এই কয়দিন কত না যুদ্ধ গেছে তার। শুধু স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে বাঁচাতে ছুটেছেন এই হাসপাতাল থেকে ওই হাসপাতাল। কিন্তু শেষপর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুনকে হার মানতে হয়েছে। শুক্রবার রাতে বলুয়ার দিঘি মহাশশ্মানে নিজহাতে স্ত্রী ও ছেলের সৎকার করেছেন।গত বছরের ১৬ অক্টোবর বিয়ে করেছিলেন এই দম্পতি। সন্তানের জন্মদানের সম্ভাব্য সময় ছিল আগামী ১২ অক্টোবর। আস্তে আস্তে সেই পথেই এগোচ্ছিল সবকিছু। কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে জ্বর হয় অর্পিতার। পরে ৭ সেপ্টেম্বর মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অর্পিতাকে

অর্পিতার পিসি শিউলি চৌধুরী বলেছেন, ‘৬ তারিখ অর্পিতার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এর পর হাসপাতালে ভর্তি করায়। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে এইচডিইউতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ডাক্তার বললেন— আইসিইউ দরকার। তখন তাকে নিয়ে প্রথমে রয়েল হাসপাতালে যাই। এর পর রয়েলের ডাক্তার বললেন তাড়াতাড়ি মেডিকেল ভর্তি করাতে। মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পর সারারাত আইসিইউতে ছিল।’

এর মধ্যে রাতেই চমেক হাসপাতালের আইসিইউ চিকিৎসকের পরামর্শে রাতেই তাকে রক্তের প্লাটিলেট দেওয়া হয়। আজ সকালেও রক্ত দেওয়ার জন্য অনেকগুলো ডোনার প্রস্তুত করেছিল পরিবার। মিঠুন কেবল প্রার্থনা করছিলেন ঈশ্বরের কাছে যাতে স্ত্রী যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ৪৬ বোতল বিদেশী মদসহ ০১ জন মাদকব্যবসায়ী গ্রেফতার

‘অনেক চেষ্টা অনেক প্রার্থনা। ডাক্তার বললেন তার ডেঙ্গু এক্সপান্ড সিনড্রম। আজ দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে অর্পিতা মারা যায়। পরপর তার বাচ্চা প্রসব হয়। খুব আশা ছিল মেয়েটার একটা ছেলে সন্তান হবে। ছেলেই হলো। কিন্তু মায়ের সঙ্গে ছেলেটিও না ফেরার দেশে’— বলছিলেন শিউলি চৌধুরী।