Dhaka ০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৫ Time View

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ বাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রোববার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’তিনি আরও জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা লেখা ছিল।

মিমোর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে এবং তার সেই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।’এ ঘটনায় মিমোর বাবা সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এ দিকে বিভাগের চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক বলেছেন, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রেম নয়, বাসা ভাড়ার টাকা জোগাড়ে চুরি; ধরা পড়ে একে একে তিন খুন!

এদিকে মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্খিতভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, শিক্ষক গ্রেপ্তার

Update Time : ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় নিজ বাসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো নামে এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল ৮টার দিকে তার মরদেহ বাড্ডার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১১টার দিকে বাবার সঙ্গে কথা বলে নিজ কক্ষে যান মিমো। রোববার ভোরে ফজরের সময় দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আলামত ও পরিবারের বয়ানের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’তিনি আরও জানান, মিমোর কক্ষ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী ও এক সহপাঠীর নাম উল্লেখ রয়েছে এবং ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা লেখা ছিল।

মিমোর বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়েছে এবং তার সেই সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গতকাল রাতে একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন সুদীপ। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। ফলে তাকে আটক করা হয়।’এ ঘটনায় মিমোর বাবা সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে সেই মামলায় সুদীপ চক্রবর্তীকে পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

এ দিকে বিভাগের চেয়ারপারসন সহকারী অধ্যাপক কাজী তামান্না হক বলেছেন, মুনিরা মাহজাবিন মিমো ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সকাল ৮ টায় খবর পেয়েছি। আমরা শুনতে পেয়েছি, একটা সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুনঃ  তিব্বতে নতুন বিপদের শঙ্কা, ৭২ ঘণ্টায় ভাঙতে পারে বাধা হ্রদ

এদিকে মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এক শোক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের বিভাগের এমএ দ্বিতীয় সেমিস্টারের মেধাবী শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন অনাকাঙ্খিতভাবে আমাদের সকলকে শোকে স্তব্ধ করে দিয়ে চলে গেছেন। অনেক উৎফুল্ল আর বলিষ্ঠ স্বভাবের মাহজাবিন এমন সিদ্ধান্ত নিবে, আমরা কেউ বিশ্বাস করতে পারছি না। এমন মৃত্যু আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। বিভাগের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ শোকে আচ্ছন্ন। আমরা চাই, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘটনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক। আমরা বিভাগের পক্ষ থেকে মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।