Dhaka ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

বাথরুমে আটকে রাখা ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ১১ বছরের শি শু তানিয়ার শরীরে ধরেছে পচন

পরিবারের অভাবের কারণে মাত্র ১১ বছর বয়সেই ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে গিয়েছিল তানিয়া। সেখানে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বর্তমানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি।

তানিয়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ি এলাকার বেলাল হোসেনের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ঢাকায় কাজে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় অবস্থানকালে তানিয়ার ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো। কখনো তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো, আবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। মারধরের কারণেও তার শরীরে একাধিক ক্ষত তৈরি হয় বলে পরিবারের দাবি।

একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার গভীর রাতে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত দেখতে পান। কয়েকটি ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও পচন ধরেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে তানিয়া।

শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারে অভাব থাকায় পরিচিত একজনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মেয়ের ওপর এমন নির্যাতন হতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

বেলাল হোসেন আরও জানান, তানিয়ার বয়স যখন সাত বছর, তখন তার মা মারা যান। এরপর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে শিশুটি। অর্থের অভাবে তার পড়াশোনাও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

পরিবারের দাবি, ঢাকায় যে বাসায় তানিয়া কাজ করত সেখানে রাসেল নামের এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী থাকতেন। শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির শরীরে পুরোনো ও নতুন ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

এদিকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তানিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছে পরিবার।

খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা করা হলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব।

তবে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। তানিয়ার চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

বাথরুমে আটকে রাখা ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ১১ বছরের শি শু তানিয়ার শরীরে ধরেছে পচন

Update Time : ০১:২১:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিবারের অভাবের কারণে মাত্র ১১ বছর বয়সেই ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে গিয়েছিল তানিয়া। সেখানে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। বর্তমানে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি।

তানিয়া মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ি এলাকার বেলাল হোসেনের মেয়ে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে জীবিকার প্রয়োজনে তাকে ঢাকায় কাজে পাঠানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ঢাকায় অবস্থানকালে তানিয়ার ওপর নিয়মিত নির্যাতন চালানো হতো। কখনো তাকে বাথরুমে আটকে রাখা হতো, আবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। মারধরের কারণেও তার শরীরে একাধিক ক্ষত তৈরি হয় বলে পরিবারের দাবি।

একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার গভীর রাতে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর ক্ষত দেখতে পান। কয়েকটি ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ও পচন ধরেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে তানিয়া।

শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন জানান, তিনি দিনমজুরের কাজ করেন। সংসারে অভাব থাকায় পরিচিত একজনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মেয়ের ওপর এমন নির্যাতন হতে পারে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।

বেলাল হোসেন আরও জানান, তানিয়ার বয়স যখন সাত বছর, তখন তার মা মারা যান। এরপর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে শিশুটি। অর্থের অভাবে তার পড়াশোনাও চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

পরিবারের দাবি, ঢাকায় যে বাসায় তানিয়া কাজ করত সেখানে রাসেল নামের এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী থাকতেন। শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর...

চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির শরীরে পুরোনো ও নতুন ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক নির্যাতনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

এদিকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তানিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তাও চেয়েছে পরিবার।

খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা করা হলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব।

তবে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। তানিয়ার চিকিৎসার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।