
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তার মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা থাকা জরুরি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগ প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউএইচওর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, সায়মা ওয়াজেদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার চেয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
হুমায়ুন কবির এ নিয়োগকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজন, যারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রাখেন।
ভবিষ্যৎ নিয়োগে সতর্কতার তাগিদ
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে ভবিষ্যতে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিবার বা ক্ষমতাসীন কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ—এমন পরিচয়ের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। বরং প্রার্থীর যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাকে প্রধান বিবেচনায় রাখা দরকার।
বাংলাদেশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন করবে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে মালদ্বীপের একজন প্রার্থীর উদাহরণ দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই প্রার্থীর ভালো পেশাগত রেকর্ড ও শক্তিশালী যোগ্যতা রয়েছে।
তার আশা, ডব্লিউএইচও ভবিষ্যতে আরও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
অনিয়ম হলে প্রকাশ্যে আসবে
আন্তর্জাতিক সংস্থায় কোনো নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা একপর্যায়ে প্রকাশ্যে আসবে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা উচিত।
পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ
আলাপকালে দেশের বাইরে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির।
তিনি জানান, পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি অর্থপাচারের ঘটনা অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদেশে থাকা বাংলাদেশের অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণের অর্থ উদ্ধার করে তা দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করাই সরকারের লক্ষ্য।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















