Dhaka ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু জাফর ইকবালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল সিলেটে সিএনজি অটোরিকশার সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১ ৭০ বছরের অভাবের সংসার, ৬ বছর ধরে শয্যাশায়ী স্ত্রী—তবুও ছেড়ে যাননি সাজু মিয়া; শেষ বয়সে পাশে দাঁড়াল প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন সিলেটের শাহ উসামা ক্ষণিকের পরিচয় থেকে যুবককে বিশ্বাস, অতঃপর যা হলো গৃহবধূর বিদ্যুতের সুইচ ভারতের হাতে, যে কোনো সময় বন্ধ করতে পারে: রিজভী প্রতিদিন অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যান কর্মকর্তার বাসায়, দুই নারী কর্মচারী সিলেটে হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১৯৩ গোয়াইনঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার ১৪ হাজার মানুষের

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন সিলেটের শাহ উসামা

 মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবনের সূচনা। এরপর দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। সেখান থেকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন সিলেটের মেধাবী তরুণ শাহ উসামা হাসান।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। তার এই অর্জনে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা ও কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। সেখানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

উসামার আগ্রহের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র গবেষণা। উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগ তার দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্বজনরা।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায়ও পারদর্শী

শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায়ও তার আগ্রহ ও দক্ষতা। তিনি আঞ্জুমানে তালিমুল কুরআন বাংলাদেশ থেকে কারিয়ানা সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দেশবরেণ্য কারীদের কাছ থেকে কেরাতের মশক গ্রহণ করেছেন।

ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ ধরে রেখেছেন। পরিবার থেকেও ছোটবেলা থেকেই তার শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলা, কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মাদ্রাসায় শিক্ষার শুরু, পরে সাধারণ শিক্ষায় সাফল্য

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহ উসামা হাসান এবং তার ভাইবোনদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়েছিল মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন।

উসামা সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত, দ্বীনি ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তার বাবা দেশবরেণ্য আলেম, লেখক ও গবেষক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তার মা লেখিকা ও দাঈ সালমা জাহান ঘোরী।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতা রয়েছে। উসামার বড় ভাই হাফিজ শাহ হাদী হাসান ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার মেজো ভাই স্থপতি শাহ মাহদী হাসান লিডিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট বোন শাহজাদী উমমা একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পরিবারের জন্য আনন্দের খবর

শাহ উসামা হাসানের যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পাওয়ার খবরে তার পরিবারে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা তার এই অর্জনকে পরিবারের পাশাপাশি সিলেটের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন যাত্রায় শাহ উসামা হাসান যেন সফলভাবে তার গবেষণা সম্পন্ন করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগাতে পারেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি—শাহ উসামা হাসানের এই পথচলা দেশের তরুণদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন সিলেটের শাহ উসামা

Update Time : ০৭:০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবনের সূচনা। এরপর দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা। সেখান থেকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন সিলেটের মেধাবী তরুণ শাহ উসামা হাসান।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। তার এই অর্জনে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।

শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধা ও কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। সেখানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানবিষয়ক গবেষণা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

উসামার আগ্রহের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র গবেষণা। উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং তা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপে পিএইচডির সুযোগ তার দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও গবেষণামূলক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন স্বজনরা।

সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায়ও পারদর্শী

শাহ উসামা হাসানের শিক্ষাজীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায়ও তার আগ্রহ ও দক্ষতা। তিনি আঞ্জুমানে তালিমুল কুরআন বাংলাদেশ থেকে কারিয়ানা সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি দেশবরেণ্য কারীদের কাছ থেকে কেরাতের মশক গ্রহণ করেছেন।

ফলে প্রাতিষ্ঠানিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের দক্ষতা ও আগ্রহ ধরে রেখেছেন। পরিবার থেকেও ছোটবেলা থেকেই তার শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আবারও পেছাল সালমান শাহ হত্যা মামলার প্রতিবেদন

মাদ্রাসায় শিক্ষার শুরু, পরে সাধারণ শিক্ষায় সাফল্য

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহ উসামা হাসান এবং তার ভাইবোনদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়েছিল মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেন।

উসামা সিলেটের একটি সম্ভ্রান্ত, দ্বীনি ও শিক্ষিত পরিবারের সন্তান। তার বাবা দেশবরেণ্য আলেম, লেখক ও গবেষক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। তার মা লেখিকা ও দাঈ সালমা জাহান ঘোরী।

পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতা রয়েছে। উসামার বড় ভাই হাফিজ শাহ হাদী হাসান ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার মেজো ভাই স্থপতি শাহ মাহদী হাসান লিডিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোট বোন শাহজাদী উমমা একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পরিবারের জন্য আনন্দের খবর

শাহ উসামা হাসানের যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পাওয়ার খবরে তার পরিবারে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা তার এই অর্জনকে পরিবারের পাশাপাশি সিলেটের জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার এই নতুন যাত্রায় শাহ উসামা হাসান যেন সফলভাবে তার গবেষণা সম্পন্ন করতে পারেন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও মানুষের কল্যাণে জ্ঞান ও গবেষণাকে কাজে লাগাতে পারেন—এ জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

মাদ্রাসার শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ডেড পিএইচডি—শাহ উসামা হাসানের এই পথচলা দেশের তরুণদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।