
সিলেট নগরীর শাহপরান এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন (৬৫) হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুনিরা আগে থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। দায়ের হয়নি কোনো মামলাও।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে শাহপরান ইসলামাবাদ এলাকায় নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন শাহাব উদ্দিন। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে শাহপরান এলাকায় নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন তিনি। চারখাই বাজারে তার ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা রয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। খুনিরা আগে থেকেই শাহাব উদ্দিনকে অনুসরণ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, জমি নিয়ে আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে বিরোধ এবং টাকা-পয়সার লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিষয় ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে সব সম্ভাবনাই যাচাই করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে নিহত শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী দাবি করেছেন, কারও সঙ্গে তার স্বামীর কোনো বিরোধ ছিল না।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ বলেন, রাতে এলাকার একজন এসে তাকে জানান, তার বাবাকে কয়েকজন আটকে রেখেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, তার বাবাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে। তার ঘাড়ে তিনটি কোপের চিহ্ন ছিল এবং শরীর রক্তে ভিজে ছিল। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহাব উদ্দিন দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। তার এক ছেলে ফ্রান্সে থাকেন।
এদিকে এর আগে গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় একই পরিবারের তিনজন হত্যার শিকার হন। নিহতরা হলেন ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
সিলেট নগরীতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিলেট প্রতিনিধি 


















