Dhaka ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ সেলিমের ১৩.৫৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য, মামলা করবে দুদক

 

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের বিশেষ তদন্তের নথি অনুযায়ী, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকা অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে বা বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকা এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাতেমা সেলিম, শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ ফজলে নাঈম ও শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়াকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হবে। তাদের নামে বা বেনামে থাকা আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, শেখ সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পাওয়া অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ টাকা

আরও পড়ুনঃ  স্ত্রীকে হত্যার পর ফজরের নামাজ পড়ে পালালেন স্বামী, অতঃপর..

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল বিষয়টি তদন্ত করে। উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ওই দলে সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মাদ অনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও মামলা করার সিদ্ধান্ত অভিযোগের পর্যায়ের বিষয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ সেলিমের ১৩.৫৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য, মামলা করবে দুদক

Update Time : ০৫:৫৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় ৩৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

দুদকের বিশেষ তদন্তের নথি অনুযায়ী, শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১৩ কোটি ৫৯ লাখ ১৮ হাজার ৬০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিমের নামে জ্ঞাত আয়ের তুলনায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৩৫৫ টাকা অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তার নামে বা বেনামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফজলে ফাহিমের নামে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ৩৬ টাকা এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে নাঈমের নামে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৪৪ টাকা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়ার নামে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাতেমা সেলিম, শেখ ফজলে ফাহিম, শেখ ফজলে নাঈম ও শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়াকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হবে। তাদের নামে বা বেনামে থাকা আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, শেখ সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে পাওয়া অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ৩৬ কোটি ২৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ টাকা

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় রক্ত পরীক্ষার সময় প্রাণ গেল নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল বিষয়টি তদন্ত করে। উপপরিচালক মো. খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ওই দলে সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার ও উপসহকারী পরিচালক এলমান আহাম্মাদ অনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও মামলা করার সিদ্ধান্ত অভিযোগের পর্যায়ের বিষয়। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী বলা যায় না।