Dhaka ০৫:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

সদ্যবিবাহিত ছেলের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, খবর শুনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাবাও

বিয়ের মেহেদির রং এখনো হাত থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি। নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সাজানো সংসার আর ভবিষ্যৎকে ঘিরে ছিল নানা পরিকল্পনা। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝেই আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন সিলেটের জকিগঞ্জের মাসুক আহমেদ (৩৮)। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে বাবা ও ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মাসুক আহমেদ শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুকের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকে ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মাসুকের বিয়ে হয়েছিল খুব সম্প্রতি। বিয়ের পর নতুন সংসার নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে করে ভবিষ্যৎ সাজানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গেও নতুন জীবনের নানা পরিকল্পনা ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ হলো না।

মাসুকের হাতে তখনো ছিল বিয়ের মেহেদির ছাপ। নতুন সংসারের ব্যস্ততায় যে হাত আরও অনেক দিন কাজ করার কথা ছিল, সেই হাতই থেমে গেল আকস্মিক এক দুর্ঘটনায়।

ছেলের মৃত্যুর পর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটির শোক আরও গভীর হয়েছে। স্বজনেরা বলছেন, প্রিয় ছেলেকে হারানোর ধাক্কা আব্দুল লতিফ সামলাতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই পরিবারকে দুই স্বজনের মরদেহ বহন করতে হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে শোক। তাঁদের অনেকেই ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একদিকে সদ্যবিবাহিত এক তরুণের অকালমৃত্যু, অন্যদিকে সেই খবর শুনে বাবার মৃত্যু—পুরো ঘটনাই এলাকায় গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে ভাড়া বাসা থেকে চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর তাঁর বাবাও মারা গেছেন।

ওসি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত মাসুক আহমেদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিবেচনা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্ত্রীর কিডনি দানে নতুন জীবন পেলেন স্বামী, ভালোবাসার কাছে হার মানল মৃত্যুর ভয়

সদ্যবিবাহিত ছেলের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, খবর শুনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাবাও

Update Time : ১০:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

বিয়ের মেহেদির রং এখনো হাত থেকে পুরোপুরি মুছে যায়নি। নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সাজানো সংসার আর ভবিষ্যৎকে ঘিরে ছিল নানা পরিকল্পনা। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝেই আকস্মিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন সিলেটের জকিগঞ্জের মাসুক আহমেদ (৩৮)। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)।

রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। একই দিনে বাবা ও ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মাসুক আহমেদ শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।

মাসুকের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর শোকে ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনেরা তাঁকে সুস্থ করার চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মাসুকের বিয়ে হয়েছিল খুব সম্প্রতি। বিয়ের পর নতুন সংসার নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে করে ভবিষ্যৎ সাজানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। পরিবারের সঙ্গেও নতুন জীবনের নানা পরিকল্পনা ভাগ করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ হলো না।

মাসুকের হাতে তখনো ছিল বিয়ের মেহেদির ছাপ। নতুন সংসারের ব্যস্ততায় যে হাত আরও অনেক দিন কাজ করার কথা ছিল, সেই হাতই থেমে গেল আকস্মিক এক দুর্ঘটনায়।

ছেলের মৃত্যুর পর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারটির শোক আরও গভীর হয়েছে। স্বজনেরা বলছেন, প্রিয় ছেলেকে হারানোর ধাক্কা আব্দুল লতিফ সামলাতে পারেননি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই পরিবারকে দুই স্বজনের মরদেহ বহন করতে হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে শোক। তাঁদের অনেকেই ঘটনাটিকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একদিকে সদ্যবিবাহিত এক তরুণের অকালমৃত্যু, অন্যদিকে সেই খবর শুনে বাবার মৃত্যু—পুরো ঘটনাই এলাকায় গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব-৯, র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-১০ এর যৌথ অভিযানে যাত্রাবাড়ীতে বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্ম ও ভিডিও করার অভিযোগে একমাত্র আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর তাঁর বাবাও মারা গেছেন।

ওসি জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত মাসুক আহমেদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি বিবেচনা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।