Dhaka ০১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় টিকা না নেওয়া শিশুরাই নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাখালী রেলগেটে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার’ ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত

সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে তার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে তারা মানববন্ধন করেন এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

১৮ অভিযোগের কথা উল্লেখ করে লিফলেট

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ‘উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির আংশিক খতিয়ান’ শিরোনামে একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

লিফলেটে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি আটকে রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উপাচার্যের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের লিফলেটে থাকা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

১১ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ

উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন।

তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, পণ্য ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ‘ওরা আমাকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারে’—মৃত্যুর আগে বাবা-মাকে বলেছিলেন মুন্নি

উন্নয়নকাজ ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ

পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ পরিচালিত হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সংস্কারকাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই সেখানে মেরামতকাজ করা হয়েছে। কাজটির প্রয়োজনীয়তা, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিকৃবির নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

তাদের দাবি, কয়েকটি নিয়োগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীরা তুলনামূলক বেশি সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে উপাচার্যের নিজ এলাকা বা পরিচিত মহলের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও করেছেন আন্দোলনকারীদের একজন।

এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এতে শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদলের সংহতি

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন অত্রাদ, জাহিদ হাসান ফাহাদ, মঈনুল হাসান সাদিক, মেহেদী হাসান রতন, সাদাব হোসেন রিয়ন, আহ্বায়ক সদস্য আশরাফুল ইসলামসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

‘সাদা দল’ সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সেনাবাহিনী সৈনিক নিয়োগ ২০২৬ সার্কুলার Army Sainik Job Circular 2026

পদত্যাগকারী একজন প্রভোস্ট বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছেন উপাচার্য

তবে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা অব্যাহতি চেয়েছেন। তাদের দায়িত্বের মেয়াদও শেষ হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব পদত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াই আন্দোলনকারীদের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে আইন ও বিধি অনুসরণ করা হয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সরকার চাইলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং টানা আন্দোলনের ফলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা

সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট

Update Time : ০৭:২৫:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ‘সাদা দল’ সমর্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশ।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার টানা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে তার সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে তারা মানববন্ধন করেন এবং উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

১৮ অভিযোগের কথা উল্লেখ করে লিফলেট

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ‘উপাচার্যের অনিয়ম ও দুর্নীতির আংশিক খতিয়ান’ শিরোনামে একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

লিফলেটে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, প্রশাসনিক পদে নিয়োগ, পদোন্নতি আটকে রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং উন্নয়ন ও সংস্কারকাজে অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উপাচার্যের পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সময়কার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে আন্দোলনকারীদের লিফলেটে থাকা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

১১ প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ

উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের আগে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১টি প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পাঁচ শিক্ষকসহ ১১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক-কর্মকর্তারা রয়েছেন।

তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, পণ্য ও সরঞ্জাম ক্রয় এবং শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এসব বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  অটোরিকশা থেকে নামিয়ে ছাত্রদলকর্মীকে কুপিয়ে জখম!

উন্নয়নকাজ ও ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ

পদত্যাগকারী শিক্ষক-কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজস্ব খাতের অর্থে কিছু উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ পরিচালিত হলেও এসব ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সংস্কারকাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, অডিটোরিয়াম আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেওয়ার আগেই সেখানে মেরামতকাজ করা হয়েছে। কাজটির প্রয়োজনীয়তা, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। কয়েকটি ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সিকৃবির নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

তাদের দাবি, কয়েকটি নিয়োগে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রার্থীরা তুলনামূলক বেশি সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে উপাচার্যের নিজ এলাকা বা পরিচিত মহলের সম্পর্ক থাকার অভিযোগও করেছেন আন্দোলনকারীদের একজন।

এক শিক্ষক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্র্যাজুয়েটদের যোগ্যতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এতে শিক্ষকদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

ছাত্রদলের সংহতি

শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আন্দোলনে বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও যোগ দেন। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন, গোলাম রব্বানী, রাকিব হোসেন অত্রাদ, জাহিদ হাসান ফাহাদ, মঈনুল হাসান সাদিক, মেহেদী হাসান রতন, সাদাব হোসেন রিয়ন, আহ্বায়ক সদস্য আশরাফুল ইসলামসহ সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

‘সাদা দল’ সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষক-কর্মকর্তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  তিন ঘণ্টার প্যারোলে মায়ের জানাজায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

পদত্যাগকারী একজন প্রভোস্ট বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রমের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব না হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন।

অভিযোগ ভিত্তিহীন বলছেন উপাচার্য

তবে আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা অব্যাহতি চেয়েছেন। তাদের দায়িত্বের মেয়াদও শেষ হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এসব পদত্যাগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না বলেও মন্তব্য করেন উপাচার্য।

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াই আন্দোলনকারীদের মূল উদ্দেশ্য।

শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন অধ্যাপক আলিমুল ইসলাম। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে আইন ও বিধি অনুসরণ করা হয়েছে এবং যোগ্য প্রার্থীদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। সরকার চাইলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং টানা আন্দোলনের ফলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।