Dhaka ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ইন্দোনেশিয়ায় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমান হাসান মার্কেটের স্থলে অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট নির্মাণের ঘোষণা সিসিক প্রশাসকের তামাবিলে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের ব্রাজিল ফুটবল দলের বাংলাদেশে খেলা নিয়ে যা জানা গেল শাহপরানে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত সিলেটে বেড়াতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রীর,আহত ৩ প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে নিজের সাড়ে ৩ বছরের মেয়েকে হত্যা, বাবার মৃত্যুদণ্ড সিলেটে একদিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত আবারও মেসির সতীর্থ হতে পারেন ডি মারিয়া, আলোচনায় ইন্টার মায়ামি

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে তাঁর নিয়োগের সামঞ্জস্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৬৩ সালের ১ মার্চ। তাঁর শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৫ সালে মাদ্রাসা বোর্ড ঢাকার অধীনে পাবনার বোয়াইলমারী কামিল মাদ্রাসা থেকে দ্বিতীয় বিভাগে দাখিল পাস করেন। সেই হিসাবে তাঁর বয়স ছিল ১২ বছর।

এ নিয়ে উপাচার্য পদপ্রার্থীদের তালিকায় থাকা এক শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এত অল্প বয়সে দাখিল পাস এবং একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপাচার্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ওই শিক্ষক নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অধ্যাপক জাকির হুসাইনের শিক্ষাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিষয়ে বিএ (অনার্স) এবং একই বছর মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে তাফসির বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন।

১২ বছর বয়সে দাখিল পাসের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন বলেন, ‘তখনকার সময় মাদ্রাসা বোর্ডে ১২ বছরে দাখিল পরীক্ষা দেওয়া যেত। তখনকার মাদ্রাসা শিক্ষা এখনকার মতো ছিল না।’

একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনার্স ও কামিলের পরীক্ষার সাল এক হলেও পরীক্ষার সময় ও ফল প্রকাশের বিষয়টি আলাদা। তাঁর ভাষ্য, অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা তিনি ১৯৮৯ সালে দেন এবং ফল প্রকাশ হয় ১৯৯০ সালে, অন্যদিকে কামিল তাফসিরে তিনি ১৯৮৫ সালে পাস করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার পুরোনো কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে জাকির হুসাইন বলেন, আগে দাখিল, আলিম ও ফাজিলের সমমান নির্ধারণের কাঠামো বর্তমান সময়ের মতো ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  চার বছর ধরে লন্ডনে প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত পদে আপন ভাই; নিচ্ছেন নিয়মিত বেতন

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড গঠনের পর দাখিলকে এসএসসির সমমান দেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের আগে দাখিলকে অষ্টম শ্রেণির সমমান হিসেবে ধরা হতো।

আইন অনুযায়ী যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন

শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক জাকির হুসাইনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’-এর ১০ ধারায় উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেবেন।

কিন্তু অধ্যাপক জাকির হুসাইন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে তাঁর নিয়োগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, আইন অনুযায়ী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ শিক্ষককে উপাচার্য করার কথা। কিন্তু আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর অধ্যুষিত এলাকা। স্থানীয় বাস্তবতা ও কৃষ্টি-কালচার বোঝেন এমন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারত।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মনোজ্জির আলী সুজনও স্থানীয় একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য করার দাবি জানান। তাঁর মতে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সুনামগঞ্জের একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হতো।

‘আইন মেনেই নিয়োগ হয়েছে’

তবে নিজের নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের দায় নিজের ওপর নিতে চাননি অধ্যাপক জাকির হুসাইন। তিনি বলেন, ‘আমি তো নিজেই উপাচার্য হইনি। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করুন। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করেই দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুনঃ  মতবিনিময়ে এহছানুল হক মিলন শিক্ষার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে শিক্ষকদের

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদ নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হলেও তাঁর নিয়োগ কীভাবে হলো—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর হিসেবে যাঁর সম্মতি রয়েছে, তাঁর সিদ্ধান্তেই উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে।

এদিকে উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন ইউজিসির সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অন্য বিভাগের অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একজন শিক্ষাবিদকেই উপাচার্য করা উচিত। কারণ এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক যে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদের থাকাটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সম্পর্কে যাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন, তাঁরা অবগত ছিলেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এমন নিয়োগ সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স প্রায় ছয় বছর হলেও এখনো স্থায়ী জায়গা নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোপুরি সমাধান হয়নি। নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে ঘিরে ওঠা এসব প্রশ্নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও একাডেমিক নেতৃত্বের বিষয়গুলোও এখন আলোচনায় এসেছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ওসমানী হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

Update Time : ০৩:২৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইনের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে তাঁর নিয়োগের সামঞ্জস্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৬৩ সালের ১ মার্চ। তাঁর শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৫ সালে মাদ্রাসা বোর্ড ঢাকার অধীনে পাবনার বোয়াইলমারী কামিল মাদ্রাসা থেকে দ্বিতীয় বিভাগে দাখিল পাস করেন। সেই হিসাবে তাঁর বয়স ছিল ১২ বছর।

এ নিয়ে উপাচার্য পদপ্রার্থীদের তালিকায় থাকা এক শিক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এত অল্প বয়সে দাখিল পাস এবং একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উপাচার্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ওই শিক্ষক নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি।

অধ্যাপক জাকির হুসাইনের শিক্ষাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিষয়ে বিএ (অনার্স) এবং একই বছর মাদ্রাসা-ই-আলিয়া থেকে তাফসির বিষয়ে কামিল (স্নাতকোত্তর) দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন।

১২ বছর বয়সে দাখিল পাসের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন বলেন, ‘তখনকার সময় মাদ্রাসা বোর্ডে ১২ বছরে দাখিল পরীক্ষা দেওয়া যেত। তখনকার মাদ্রাসা শিক্ষা এখনকার মতো ছিল না।’

একই বছরে দুটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, অনার্স ও কামিলের পরীক্ষার সাল এক হলেও পরীক্ষার সময় ও ফল প্রকাশের বিষয়টি আলাদা। তাঁর ভাষ্য, অনার্সের ফাইনাল পরীক্ষা তিনি ১৯৮৯ সালে দেন এবং ফল প্রকাশ হয় ১৯৯০ সালে, অন্যদিকে কামিল তাফসিরে তিনি ১৯৮৫ সালে পাস করেন।

মাদ্রাসা শিক্ষার পুরোনো কাঠামোর ব্যাখ্যা দিয়ে জাকির হুসাইন বলেন, আগে দাখিল, আলিম ও ফাজিলের সমমান নির্ধারণের কাঠামো বর্তমান সময়ের মতো ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  পররাষ্ট্রের দুই প্রতিমন্ত্রীর কার দায়িত্ব কী, জানালো মন্ত্রণালয়

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদ্রাসা বোর্ড গঠনের পর দাখিলকে এসএসসির সমমান দেওয়া হয়েছে। তবে বোর্ড গঠনের আগে দাখিলকে অষ্টম শ্রেণির সমমান হিসেবে ধরা হতো।

আইন অনুযায়ী যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন

শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক জাকির হুসাইনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’-এর ১০ ধারায় উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে স্বনামধন্য একজন শিক্ষাবিদকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেবেন।

কিন্তু অধ্যাপক জাকির হুসাইন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে তাঁর নিয়োগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল জলিল বলেন, আইন অনুযায়ী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ শিক্ষককে উপাচার্য করার কথা। কিন্তু আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন শিক্ষককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ হাওর অধ্যুষিত এলাকা। স্থানীয় বাস্তবতা ও কৃষ্টি-কালচার বোঝেন এমন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারত।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মনোজ্জির আলী সুজনও স্থানীয় একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য করার দাবি জানান। তাঁর মতে, নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সুনামগঞ্জের একজন যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হতো।

‘আইন মেনেই নিয়োগ হয়েছে’

তবে নিজের নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের দায় নিজের ওপর নিতে চাননি অধ্যাপক জাকির হুসাইন। তিনি বলেন, ‘আমি তো নিজেই উপাচার্য হইনি। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করুন। যারা আমাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, তারা আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করেই দিয়েছেন বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের রেশনিং প্রত্যাহার

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদ নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হলেও তাঁর নিয়োগ কীভাবে হলো—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর হিসেবে যাঁর সম্মতি রয়েছে, তাঁর সিদ্ধান্তেই উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে।

এদিকে উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন ইউজিসির সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান। তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অন্য বিভাগের অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন।

অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের একজন শিক্ষাবিদকেই উপাচার্য করা উচিত। কারণ এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক যে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের শিক্ষাবিদের থাকাটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সম্পর্কে যাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন, তাঁরা অবগত ছিলেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও এমন নিয়োগ সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স প্রায় ছয় বছর হলেও এখনো স্থায়ী জায়গা নির্ধারণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পুরোপুরি সমাধান হয়নি। নতুন উপাচার্যের নিয়োগকে ঘিরে ওঠা এসব প্রশ্নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও একাডেমিক নেতৃত্বের বিষয়গুলোও এখন আলোচনায় এসেছে।