Dhaka ১০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

৫০০ টাকা মজুরিসহ চার দাবিতে সিলেটের ২৩ চা-বাগানে কর্মবিরতি

সিলেট প্রতিনিধি: দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেটের ২৩টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ ২৩টি চা-বাগানে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চা শ্রমিকরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে একজন চা শ্রমিক দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি পান। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপন করাও কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

মালনীছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, “বর্তমান মজুরি দিয়ে কোনোভাবেই একটি পরিবার দুবেলা দুমুঠো খেয়ে চলতে পারে না। চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

বুরজান চা-বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি তাদের।

লাক্কাতুরা চা-বাগানের শ্রমিক রঘু দাস বলেন, “এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে টানা কর্মবিরতি শুরু হবে।”

এর আগে গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন চা শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় নতুন করে কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

আরও পড়ুনঃ  ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: সংসদে ভোটগ্রহণ আজ

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চার দফা দাবির মধ্যে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়নসহ আট দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী চা-বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে যাচাই করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানান। তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দাবি আদায়ে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট ভ্যালির চা শ্রমিকরা। তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

৫০০ টাকা মজুরিসহ চার দাবিতে সিলেটের ২৩ চা-বাগানে কর্মবিরতি

Update Time : ০২:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধি: দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন, ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেটের ২৩টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন চা শ্রমিকরা।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ ২৩টি চা-বাগানে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন চা শ্রমিকরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, বর্তমানে একজন চা শ্রমিক দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি পান। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপন করাও কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।

মালনীছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, “বর্তমান মজুরি দিয়ে কোনোভাবেই একটি পরিবার দুবেলা দুমুঠো খেয়ে চলতে পারে না। চার দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

বুরজান চা-বাগানের শ্রমিক সাইদুল রহমান সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় অনেক বাগানে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কমিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি তাদের।

লাক্কাতুরা চা-বাগানের শ্রমিক রঘু দাস বলেন, “এখন আমরা প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হলে টানা কর্মবিরতি শুরু হবে।”

এর আগে গত ৯ আগস্ট চার দফা দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন চা শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় নতুন করে কর্মবিরতির কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।

আরও পড়ুনঃ  দেশের রেলপথে নতুন যুগ, চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চার দফা দাবির মধ্যে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়নসহ আট দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী চা-বাগানগুলোর বাস্তবতা সরেজমিনে যাচাই করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠনের কথা জানান। তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, দাবি আদায়ে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট ভ্যালির চা শ্রমিকরা। তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।