আব্দুল্লাহপুর–টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলে নিস্তেজ অবস্থায় তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে রহস্য
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর–টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে নিস্তেজ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী নিজেই মদ পান করার কথা জানিয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তরুণী বলেন, তিনি নিজেই মদ পান করেছিলেন। তার ভাষ্য, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তাকে সাহায্য করতে এসেছিলেন।
তরুণী জানান, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। ওই পরিস্থিতিতে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করেন। পরে মদ্যপ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ফোন করেন। তার দাবি, তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে চাচা হিসেবে চিনতেন এবং তারা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পারিবারিক ও মানসিক চাপের কথা জানিয়েছেন। মদ্যপ অবস্থায় তিনি ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে যান বলেও জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, আপাতত তরুণীকে তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা মোটরসাইকেলটির নম্বর শনাক্ত করে এর মালিক ও দুই আরোহীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীর একাধিক বিয়ে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও তিনি সেগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এর আগে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের মাঝখানে এক তরুণীকে অনেকটা নিস্তেজ অবস্থায় বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে তাকে মৃত বা গুরুতর অসুস্থ বলে ধারণা করেন। পরে জানা যায়, তিনি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।
তবে ঘটনার পুরোপুরি প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি কারা, তারা ঠিক কী পরিস্থিতিতে তরুণীকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং ওই রাতে কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। মোটরসাইকেলের মালিকানা, ভিডিওর উৎস, ঘটনাস্থলের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুর প্রতিনিধি 



















