
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে ‘সোনাই পাগলা’ নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মাখন মিয়া নামের এক ব্যক্তি সোনাই পাগলা মারধর করে মাথার চুল কাটছেন। এ সময় তাকে চিৎকার করতে শোনা যায়। সোনাই পাগলার প্রকৃত নাম সোনা মিয়া। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের টঙর গ্রামে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকে ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার করে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করছেন।
তবে পুলিশ বলছে, এটা ফানি ভিডিও। সোনা মিয়া ও মাখন মিয়া দুজনেই মজার ছলে (ফানি ভিডিও) ভিডিওটি তৈরি করেছেন। তারা দুজনেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা মাখন মিয়া জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার বাঘময়না গ্রামের বাসিন্দা। আর সোনা মিয়া দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংগর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘সোনাই পাগলা’ নামে পরিচিত। তাঁর বাবার নাম পরতাব উল্লা।
মারধরের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আরেকটি ভিডিওতে সোনাই মিয়া দাবি করেন, প্রায় দেড় থেকে দুই বছর আগে মাখন মিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। এরই জের ধরে বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রানীগঞ্জ বাজার এলাকায় তাকে পেয়ে মাখন মিয়া হামলা চালান।
মো. হাবিবুর রহমান ফারহান নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে লেখেন, ‘মাখন মিয়া দেখতে চায় তার সামনে দাড়ানোর কে আছে দিরাইয়ের, আজকে দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংগর গ্রামের সুনাই পাগলার মো. সুনা মিয়া চুল কেটে দিয়েছে রানিগঞ্জ বাঘ ময়না গ্রামের মাখন মিয়া, পুরো দিরাই উপজেলাকে চ্যালেঞ্জ করেছে, দিরাইয়ের কেউ উনার…..ক্ষমতা নেই।’
রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মো. ছদরুল ইসলাম বলেন, রানীগঞ্জ বাজারের ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশ ও ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে সম্ভবত।
তার ধারণা, এটি আকস্মিক কোনো মারামারির ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি সাজানো হয়েছে। মানুষের নজর কাড়তেই তারা এভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভিডিও তারাই ধারণ করে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে ছড়িয়ে দিয়েছে।
মাখন মিয়ার প্রসঙ্গ টেনে চেয়ারম্যান বলেন, কোনো বিশেষ চরিত্র বা দুষ্কৃতকারী হিসেবে পরিচিতি তৈরি করে বাড়তি মনোযোগ বা সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেও এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সোনা মিয়া ও মাখন মিয়া মজার ছলে (ফানি ভিডিও) ভিডিওটি তৈরি করেছেন। তারা দুজন মিলে ফানি ভিডিও করেছেন। বিষয়টি জানার পর সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 


















