Dhaka ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জরিমানা ৩ জনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, গরম খুন্তি দিয়ে দুই ছাত্রকে ছ্যাঁকা; পরিচালকসহ গ্রেপ্তার ৩ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে মালিকের সন্ধানে দুদিন ধরে মাইকিং করছেন এক যুবক ৮ দফা দাবিতে রেলপথ অবরোধ, থামল কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ঢাকায় গোপন বৈঠক, যুবলীগের ৮ নেতা গ্রেপ্তার বিএনপির বিভিন্ন কমিটির শূন্যপদে পদোন্নতি হবে কীভাবে, জানালেন রিজভ রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, সাজছে নগরী ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

খেলব না বলেও ৬ মাসে ১০ ম‍্যাচ, ভারত-পাকিস্তানের কেন এই ‘বন্ধুত্ব’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৩ Time View

কিছুদিন পরপরই ভারতের ভেতরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচ না খেলার দাবি ওঠে। বিশেষ করে পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলা এবং দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি’ অনুযায়ী পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় খেলায় ভারত কোনো দল পাঠাবে না এবং পাকিস্তানও ভারতে খেলতে পারবে না। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভারত সরকারের এই ঘোষণার পরও গত পাঁচ মাসে দুই দেশ ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মুখোমুখি হওয়া ঘটেছে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর টুর্নামেন্টে। শেষবার পাকিস্তান ভারতে সফর করেছিল ২০১৩ সালে।

আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ড্র হয় না। সাধারণত দলগুলোর শক্তি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গ্রুপ ঠিক করা হয়। তবে প্রচলিত ধারণা হলো—ভারত ও পাকিস্তানকে এক গ্রুপে না রাখার জন্য ড্র করা হয় না। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সর্বোচ্চ দর্শক আগ্রহ ও বাণিজ্যিক মূল্য। ২০২২ সালে এসিসির সাবেক বাণিজ্যিক প্রধান প্রভাকরণ থানরাজ জানিয়েছিলেন, “ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের সম্প্রচার থেকেই এসিসির আয়ের বড় অংশ আসে।”

রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, আইসিসি ও এসিসির সব জাতীয়, বয়সভিত্তিক এবং উদীয়মান খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে দুবাইয়ে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি।
  • ১৪, ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুই দলের লড়াই।
  • ৫ অক্টোবর আইসিসি নারী বিশ্বকাপের লিগ পর্বে কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তান।
  • নভেম্বর–ডিসেম্বর এসিসি রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ এবং অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপেও দুই দলের মুখোমুখি লড়াই।
  • অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২১ ডিসেম্বর
আরও পড়ুনঃ  টি২০ তে মান্ধাতার আমলে পড়ে আছে পাকিস্তান!

এইভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টের ছাতার নিচে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়মিত হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারীর লক্ষ্য থাকে—গ্রুপ পর্বে ম্যাচ ঠিক রাখা যাতে সেমিফাইনাল বা ফাইনালেও দুই দলের সম্ভাব্য মুখোমুখি দেখা যায়।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

খেলব না বলেও ৬ মাসে ১০ ম‍্যাচ, ভারত-পাকিস্তানের কেন এই ‘বন্ধুত্ব’

Update Time : ০৬:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিছুদিন পরপরই ভারতের ভেতরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচ না খেলার দাবি ওঠে। বিশেষ করে পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলা এবং দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি’ অনুযায়ী পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় খেলায় ভারত কোনো দল পাঠাবে না এবং পাকিস্তানও ভারতে খেলতে পারবে না। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভারত সরকারের এই ঘোষণার পরও গত পাঁচ মাসে দুই দেশ ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মুখোমুখি হওয়া ঘটেছে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর টুর্নামেন্টে। শেষবার পাকিস্তান ভারতে সফর করেছিল ২০১৩ সালে।

আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ড্র হয় না। সাধারণত দলগুলোর শক্তি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গ্রুপ ঠিক করা হয়। তবে প্রচলিত ধারণা হলো—ভারত ও পাকিস্তানকে এক গ্রুপে না রাখার জন্য ড্র করা হয় না। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সর্বোচ্চ দর্শক আগ্রহ ও বাণিজ্যিক মূল্য। ২০২২ সালে এসিসির সাবেক বাণিজ্যিক প্রধান প্রভাকরণ থানরাজ জানিয়েছিলেন, “ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের সম্প্রচার থেকেই এসিসির আয়ের বড় অংশ আসে।”

রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, আইসিসি ও এসিসির সব জাতীয়, বয়সভিত্তিক এবং উদীয়মান খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে দুবাইয়ে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি।
  • ১৪, ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুই দলের লড়াই।
  • ৫ অক্টোবর আইসিসি নারী বিশ্বকাপের লিগ পর্বে কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তান।
  • নভেম্বর–ডিসেম্বর এসিসি রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ এবং অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপেও দুই দলের মুখোমুখি লড়াই।
  • অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২১ ডিসেম্বর
আরও পড়ুনঃ  ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার

এইভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টের ছাতার নিচে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়মিত হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারীর লক্ষ্য থাকে—গ্রুপ পর্বে ম্যাচ ঠিক রাখা যাতে সেমিফাইনাল বা ফাইনালেও দুই দলের সম্ভাব্য মুখোমুখি দেখা যায়।