Dhaka ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

তীব্র আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝায় অনাগত সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন ২৪ বছর বয়সী মোসা. আঁখি। গণমাধ্যমে তার অসহায়ত্বের খবর প্রকাশের পর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আঁখির সন্তান প্রসবের ব্যয় বহন ও পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

চরম অভাব-অনটন, ঋণের চাপ ও স্বামীর অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তৃতীয়বারের মতো মা হতে যাওয়া আঁখি। অনাগত সন্তানকে ঘিরে আনন্দের বদলে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তার। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে প্ল্যাকার্ড হাতে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

 

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি গর্ভের সন্তানটি দান করতে চাই, ভালো একটি পরিবারে। আমি অসহায়, আমাকে সাহায্য করুন।’

 

আঁখির এই অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁখির স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় স্বাভাবিকভাবে সংসারের ব্যয় বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে ক্রমেই বেড়েছে ঋণের বোঝা। আর্থিক সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে অনাগত সন্তানকে অন্য পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হন আঁখি।

 

পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানার পর তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে প্রলোভন ও হুমকির অভিযোগ গাড়িচালক ওবায়দুরের

 

এ ছাড়া আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় খরচ বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

চরম আর্থিক সংকটে পড়ে অনাগত সন্তানকে নিয়ে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য হওয়া আঁখির পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ পরিবারটির অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া সেই আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:০১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

তীব্র আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝায় অনাগত সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন ২৪ বছর বয়সী মোসা. আঁখি। গণমাধ্যমে তার অসহায়ত্বের খবর প্রকাশের পর পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আঁখির সন্তান প্রসবের ব্যয় বহন ও পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

 

চরম অভাব-অনটন, ঋণের চাপ ও স্বামীর অসুস্থতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তৃতীয়বারের মতো মা হতে যাওয়া আঁখি। অনাগত সন্তানকে ঘিরে আনন্দের বদলে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছিল তার। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে প্ল্যাকার্ড হাতে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।

 

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমি গর্ভের সন্তানটি দান করতে চাই, ভালো একটি পরিবারে। আমি অসহায়, আমাকে সাহায্য করুন।’

 

আঁখির এই অসহায়ত্বের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে পরিবারটির খোঁজখবর নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত আঁখি ও তার পরিবারের সন্ধান করা হয়। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আঁখির স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তবে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় স্বাভাবিকভাবে সংসারের ব্যয় বহন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে ক্রমেই বেড়েছে ঋণের বোঝা। আর্থিক সংকট থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে অনাগত সন্তানকে অন্য পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হন আঁখি।

 

পরিবারটির দুরবস্থার কথা জানার পর তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আঁখি ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে পরিবারের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!!

 

এ ছাড়া আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় খরচ বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

 

চরম আর্থিক সংকটে পড়ে অনাগত সন্তানকে নিয়ে এমন কঠিন সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য হওয়া আঁখির পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ পরিবারটির অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।