
কাশিকাপন এলাকায় ভোরের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া; উদ্ধার অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজে নামে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাগামী **ইউনিক পরিবহন** এবং সিলেটগামী **বেঙ্গল স্লিপার কোচ** মহাসড়কের কাশিকাপন এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বহু যাত্রী বাসের ভেতরে আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৭ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা গুরুতর আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বিশেষ সরঞ্জামের সাহায্যে বের করে আনা হয়। উদ্ধারকাজে হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও অংশ নেন। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতির হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের এ অংশে অতীতেও একাধিক বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং অসতর্ক চালনার কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তারা মহাসড়কে কঠোর নজরদারি, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিলেট প্রতিনিধি 



















