Dhaka ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

সৌদি গিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে, ফিরছেন মরদেহ হয়ে

  • desk news
  • Update Time : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৪ Time View

সংসারের অভাব ঘোচাতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার তিন যুবক। স্বপ্ন ছিল বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিশোধ করবেন ঋণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে তাদের।

এ ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয় এবং নাটোরের নলডাঙ্গার তিনজন। স্বজনদের কাছে এখন আর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষা নেই; অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার।

নিহত তিনজন হলেন—নাটোরের খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়ার সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড়ের শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গার রবিউল আওয়াল হৃদয়।

নিহতদের মধ্যে একজন মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজনের সৌদি যাত্রার বয়স তিন ও পাঁচ বছর। কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা এবং ঋণ পরিশোধ করা। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন তাদের পরিবারগুলোর কাঁধে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।

পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াক সরকার। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বিদেশে গিয়ে আয় করে পরিবারের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু রিয়াদের সেই কারখানার আগুন শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে তিন পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন শোক আর ঋণের বোঝা নিয়ে প্রিয়জনের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় নাটোরের তিন পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

সৌদি গিয়েছিলেন ভাগ্য বদলাতে, ফিরছেন মরদেহ হয়ে

Update Time : ১১:৫৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সংসারের অভাব ঘোচাতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার তিন যুবক। স্বপ্ন ছিল বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিশোধ করবেন ঋণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে তাদের।

এ ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয় এবং নাটোরের নলডাঙ্গার তিনজন। স্বজনদের কাছে এখন আর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষা নেই; অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার।

নিহত তিনজন হলেন—নাটোরের খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়ার সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড়ের শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গার রবিউল আওয়াল হৃদয়।

নিহতদের মধ্যে একজন মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজনের সৌদি যাত্রার বয়স তিন ও পাঁচ বছর। কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা এবং ঋণ পরিশোধ করা। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন তাদের পরিবারগুলোর কাঁধে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।

পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াক সরকার। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

বিদেশে গিয়ে আয় করে পরিবারের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু রিয়াদের সেই কারখানার আগুন শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে তিন পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন শোক আর ঋণের বোঝা নিয়ে প্রিয়জনের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় নাটোরের তিন পরিবার।

আরও পড়ুনঃ  হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত