
সংসারের অভাব ঘোচাতে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নাটোরের নলডাঙ্গার তিন যুবক। স্বপ্ন ছিল বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিশোধ করবেন ঋণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ গেছে তাদের।
এ ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয় এবং নাটোরের নলডাঙ্গার তিনজন। স্বজনদের কাছে এখন আর প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষা নেই; অপেক্ষা শুধু মরদেহ দেশে ফেরার।
নিহত তিনজন হলেন—নাটোরের খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুরপাড়ার সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড়ের শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গার রবিউল আওয়াল হৃদয়।
নিহতদের মধ্যে একজন মাত্র সাত মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। অন্য দুজনের সৌদি যাত্রার বয়স তিন ও পাঁচ বছর। কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে কাজ করে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা এবং ঋণ পরিশোধ করা। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এখন তাদের পরিবারগুলোর কাঁধে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি চেপে বসেছে ঋণের বোঝা।
পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্বজনদের দাবি, দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াক সরকার। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
বিদেশে গিয়ে আয় করে পরিবারের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। কিন্তু রিয়াদের সেই কারখানার আগুন শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে তিন পরিবারের ভবিষ্যতের স্বপ্নও। এখন শোক আর ঋণের বোঝা নিয়ে প্রিয়জনের মরদেহ ফেরার অপেক্ষায় নাটোরের তিন পরিবার।
desk news 

























