Dhaka ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Coronavirus disease 2019 ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

পবিত্র শবে বরাতের ফজিলতপূর্ণ বাণী ও গুরুত্ব

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০১ Time View

শবে বরাত ইসলামের এক অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় রাত। আরবি “শাবান” মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। “বরাত” শব্দের অর্থ হলো মুক্তি, নিষ্কৃতি বা ক্ষমা। এ রাত আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের এক মহাসুযোগ।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে,
“শাবানের মধ্যরাত্রিতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
—(ইবনে মাজাহ)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তবে শিরক ও হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত ব্যক্তিরা এই রহমত থেকে বঞ্চিত হয়—এটি আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
শবে বরাত এমন এক রাত, যে রাতে বান্দার তাকদিরের ফয়সালা হয় বলে বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। কার জীবন-মৃত্যু, রিজিক, সুখ-দুঃখ—সবকিছু আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত হয়। তাই এ রাতে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যখন শাবানের মধ্যরাত্রি আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো।”
—(ইবনে মাজাহ)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, শবে বরাতে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। বিশেষ করে দীর্ঘ সিজদায় আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়া এই রাতের সৌন্দর্য।
শবে বরাতের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—মৃত্যুর স্মরণ। আমাদের পূর্বপুরুষ, আত্মীয়স্বজন যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের জন্য দোয়া ও ইসালে সওয়াব করা এই রাতের অন্যতম আমল। কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাত কামনা করলে আল্লাহ তাতে খুশি হন।
একটি ফজিলতপূর্ণ বাণী হলো—
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন।”
শবে বরাত সেই দরজায় কড়া নাড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময়।
এই রাতে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো উম্মতের জন্য দোয়া করা উচিত। আজ মুসলিম উম্মাহ নানা সংকটে জর্জরিত। শবে বরাত আমাদের শেখায়—আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়াই সব সমস্যার আসল সমাধান।
তবে মনে রাখতে হবে, শবে বরাতের ইবাদত হতে হবে শিরকমুক্ত ও সুন্নাহসম্মত। আতশবাজি, অপচয়, লোক দেখানো ইবাদত বা অন্যকে কষ্ট দেওয়া কোনোভাবেই এই পবিত্র রাতের শিক্ষা নয়।
পরিশেষে বলা যায়, শবে বরাত হলো আত্মশুদ্ধির রাত, ক্ষমা লাভের রাত, নতুন করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার রাত। আসুন, আমরা এই রাতকে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে বরাতের প্রকৃত ফজিলত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 🤲

আরও পড়ুনঃ  বাসার সামনে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা
Tag :
About Author Information

টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

পবিত্র শবে বরাতের ফজিলতপূর্ণ বাণী ও গুরুত্ব

Update Time : ০৬:১৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত ইসলামের এক অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময় রাত। আরবি “শাবান” মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে শবে বরাত বলা হয়। “বরাত” শব্দের অর্থ হলো মুক্তি, নিষ্কৃতি বা ক্ষমা। এ রাত আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের এক মহাসুযোগ।
হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে,
“শাবানের মধ্যরাত্রিতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
—(ইবনে মাজাহ)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই রাতে আল্লাহ তায়ালা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। যারা আন্তরিকভাবে তওবা করে, আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তাদের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। তবে শিরক ও হিংসা-বিদ্বেষে লিপ্ত ব্যক্তিরা এই রহমত থেকে বঞ্চিত হয়—এটি আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
শবে বরাত এমন এক রাত, যে রাতে বান্দার তাকদিরের ফয়সালা হয় বলে বহু আলেম উল্লেখ করেছেন। কার জীবন-মৃত্যু, রিজিক, সুখ-দুঃখ—সবকিছু আল্লাহর হুকুমে নির্ধারিত হয়। তাই এ রাতে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যখন শাবানের মধ্যরাত্রি আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো।”
—(ইবনে মাজাহ)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, শবে বরাতে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। বিশেষ করে দীর্ঘ সিজদায় আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাওয়া এই রাতের সৌন্দর্য।
শবে বরাতের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো—মৃত্যুর স্মরণ। আমাদের পূর্বপুরুষ, আত্মীয়স্বজন যারা ইন্তেকাল করেছেন, তাদের জন্য দোয়া ও ইসালে সওয়াব করা এই রাতের অন্যতম আমল। কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাত কামনা করলে আল্লাহ তাতে খুশি হন।
একটি ফজিলতপূর্ণ বাণী হলো—
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহ তার জন্য ক্ষমার দরজা খুলে দেন।”
শবে বরাত সেই দরজায় কড়া নাড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময়।
এই রাতে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো উম্মতের জন্য দোয়া করা উচিত। আজ মুসলিম উম্মাহ নানা সংকটে জর্জরিত। শবে বরাত আমাদের শেখায়—আল্লাহর দরবারে ফিরে যাওয়াই সব সমস্যার আসল সমাধান।
তবে মনে রাখতে হবে, শবে বরাতের ইবাদত হতে হবে শিরকমুক্ত ও সুন্নাহসম্মত। আতশবাজি, অপচয়, লোক দেখানো ইবাদত বা অন্যকে কষ্ট দেওয়া কোনোভাবেই এই পবিত্র রাতের শিক্ষা নয়।
পরিশেষে বলা যায়, শবে বরাত হলো আত্মশুদ্ধির রাত, ক্ষমা লাভের রাত, নতুন করে আল্লাহর পথে ফিরে আসার রাত। আসুন, আমরা এই রাতকে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে বরাতের প্রকৃত ফজিলত লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। 🤲

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্র শক্তিকে আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় বলে মন্তব্য জাতিসংঘ মহাসচিবের