Dhaka ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে আধুনিক যুগে নতুনভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় এই কিংবদন্তি শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা করিম শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন। একতারা হাতে গ্রামবাংলার পথে পথে ঘুরে তিনি গান গাইতেন।

কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের মতো সাধকদের সান্নিধ্যে তিনি বাউল ও আধ্যাত্মিক সংগীতের শিক্ষা লাভ করেন। ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনও তাঁর সংগীতচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে নিজের স্বতন্ত্র সুর ও কথনের মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকসংগীতকে সমৃদ্ধ করেন।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ও ‘গাড়ি চলে না’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর গান শুধু প্রেম, বিরহ ও মানুষের জীবনবোধের কথা বলেনি; একই সঙ্গে সমাজের অন্যায়, বৈষম্য, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী বক্তব্য তুলে ধরেছে।

কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি আজীবন সংগীতচর্চা চালিয়ে গেছেন। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন, মানবতাবাদী দর্শন ও সৃষ্টিশীলতা তাঁকে বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়াও তিনি রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি বাউল শিল্পী। তবে তাঁর সৃষ্ট গান ও দর্শন আজও বাংলার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ  নিজ ঘরে যুবকের মরদেহ, বাবার অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ০২:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে আধুনিক যুগে নতুনভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম। দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় এই কিংবদন্তি শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আজ তাঁর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন শাহ আবদুল করিম। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা করিম শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিলেন। একতারা হাতে গ্রামবাংলার পথে পথে ঘুরে তিনি গান গাইতেন।

কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন ও শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের মতো সাধকদের সান্নিধ্যে তিনি বাউল ও আধ্যাত্মিক সংগীতের শিক্ষা লাভ করেন। ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শনও তাঁর সংগীতচিন্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে নিজের স্বতন্ত্র সুর ও কথনের মাধ্যমে তিনি বাংলার লোকসংগীতকে সমৃদ্ধ করেন।

‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ও ‘গাড়ি চলে না’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান সৃষ্টি করেছেন শাহ আবদুল করিম। তাঁর গান শুধু প্রেম, বিরহ ও মানুষের জীবনবোধের কথা বলেনি; একই সঙ্গে সমাজের অন্যায়, বৈষম্য, কুসংস্কার ও শোষণের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদী বক্তব্য তুলে ধরেছে।

কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেও তিনি আজীবন সংগীতচর্চা চালিয়ে গেছেন। তাঁর সহজ-সরল জীবনযাপন, মানবতাবাদী দর্শন ও সৃষ্টিশীলতা তাঁকে বাংলার লোকসংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এ ছাড়াও তিনি রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি বাউল শিল্পী। তবে তাঁর সৃষ্ট গান ও দর্শন আজও বাংলার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তাঁর গান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলা লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ১৬ থেকে ২৩ দিনের টানা ছুটি পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা