
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে স্কুল ও কলেজের সাত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রাতে শাল্লা উপজেলা সদরের শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথমে চারজনকে আটক করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাতজন হলেন অনিক দাস, বর্ষণ তালুকদার, সৌমিত্র দাস, দীপ্ত দাস, অভি সরকার, দেব দাস ও ইমন দাস। তাদের মধ্যে কয়েকজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ফুটবল খেলা উপলক্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী রাতে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে খাবারের আয়োজন করেছিলেন। খাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা বিদ্যালয়ের মাঠ এলাকায় স্লোগান দেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে স্লোগান ও মিছিল করেছেন। এ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা করা হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। বন্ধুদের সঙ্গে খাবার শেষে তারা স্লোগান দিয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বর্ষণ তালুকদারের বাবা অনাদি তালুকদার বলেন, তার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। একই দাবি করেছেন অভি সরকারের বাবা বাদল সরকারও।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারও বয়স কম হলে আদালত আইন অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
শনিবার রাতে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলাটির আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 



















