নির্বাচন কমিশন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের ঘোষণা না দিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে শুরু হয় জোরদার আলোচনা। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়ে গেছে হিসেব নিকেশ।
স্থানীয় ভোটার ও তৃর্ণমূল নেতাকর্মীদের বিবেচনায় এসব প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াইয়ে প্রাধান্য পাবেন তরুণ নেতারাই। সাধারণ মানুষও তরুণ নেতৃত্বকেই দিতে চাচ্ছেন তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব।
নির্বাচনী প্রাক-প্রস্তুতির অংশ হিসেব এরই মধ্যে নীরবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। গত ঈদুল ফিতরে সামাজিক মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে শুভেচ্ছা দিয়ে অনেকে আলোচনায় এসেছেন। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বা এলাকায় বিলবোর্ড সাঁটিয়েও প্রচারণা শুরু করেছেন। আবার সামাজিক নানা আয়োজনে নিজের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন অনেকে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কোরবাননগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আকবর আলী, যুবদল নেতা সোহেল আহমদ, জেলা জামায়েতের নায়েবে আমির মমতাজুল হাসান আবেদ, জামায়াত নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বদরুল কাদির শিহাব এবং মাহমুদুর রহমান দেলোয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট মণীশ কান্তি দে-ও নির্বাচন করতে পারেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সদর উপজেলায় স্থাপন আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব মুনাজ্জির হোসেন সুজনের নামও বিএনপি সমর্থকদের আলোচনায় রয়েছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৯ জন প্রার্থীর তৎপরতা চোখে পড়েছে ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই। তারা হলেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রমিজ উদ্দিন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েছ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছবাব মিয়া, সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহন বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রাজু আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুর রহমান। নির্দলীয় নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও সফর উদ্দিন এবং দিলীপ কুমার বর্মণ প্রার্থী হতে পারেন বলে প্রচার রয়েছে।
শান্তিগঞ্জের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনছার উদ্দিন, জেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা আকিকুর রহমান আকিক, রেজাউল করিম জায়গীরদার রাজা ও মাহবুবুর রহমান, উপজেলা জামায়েতের আমির হাফিজ আবু খালেদ প্রার্থী হতে পারেন।
দিরাইয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ও হুমায়ুন কবীর তালুকদারের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা প্রচার হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গণেন্দ্র চন্দ্র সরকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহবুব ছোবহানী চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়ালের নামে প্রচারণা আছে। নির্দলীয় নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নেতা শ্যামাপ্রসাদ দাস, অ্যাডভোকেট দীপু রঞ্জন দাস এবং অর্ণব কিশোর দাস নির্বাচনে লড়তে পারেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জুয়েল, বিএনপি নেতা ফজলুল হক, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা ডা. আব্দুল কুদ্দুছ নির্বাচনে লড়তে পারেন। ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম রহমত, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হক, জেলা বিএনপির সদস্য মামুনুর রশিদ শান্ত ও নেহার উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচন নির্দলীয় হলে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামীম আহমদ মুরাদও প্রার্থী হতে পারেন।
মধ্যনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, আব্দুল কাইয়ুম মজনু, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাসেল আহমদ, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদুর রহমান এবং তাঁর সন্তান অ্যাডভোকেট মাসুক মিয়াকে নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা রয়েছে।
তাহিরপুরে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা খসরুল আলম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রাখাব উদ্দিন ও মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক, বিএনপি নেতা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, ব্যবসায়ী সফি আলম প্রার্থী হতে পারেন।
ছাতকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান তোতা মিয়া, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ আব্দুল গণি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এ জে লিমন, জামায়াত নেতা রেজাউল করিম তালুকদার, অ্যাডভোকেট ছুফি আলম সোহেল, নির্দলীয় হলে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল ও আওলাদ আলী রেজা প্রার্থী হতে পারেন।
জগন্নাথপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউর রহমান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু হুরায়রা ছাদ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব জামাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা জাভেদ কুরেশি, নির্দলীয় নির্বাচন হলে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা প্রার্থী হতে পারেন।





