Dhaka ০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক তীব্র সমালোচনার মুখে সরছে কিনব্রিজের ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ জুমার দিনের ফজিলত ও রাসুল (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ আমল সিলেটে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ: ‘দি চট্টগ্রাম ডোর অ্যান্ড ফার্নিচার’ সিলগালা সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেলেন নাসিম হোসাইন সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে জামায়াতের আমির ও নাহিদ সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই সহোদর খালাস সমবায়ের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের:সাবেক জামায়াত নেতা কারাগারে প্রকাশ্যে আসেননি হাসিনা, অন্ধকারে দিলেন ভিডিও ভাষণ

‘আল্লাহ কেন আমাকে নেয় না’, বাড়ি ছাড়া পঙ্গু বৃদ্ধ বাবার কান্না

বার্ধক্যে পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৮০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী আজিজুর রহমানের। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানদের কাছ থেকে আশ্রয় না পেয়ে তিনি বর্তমানে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরে বসবাস করছেন। মানুষের সহায়তায় পাওয়া খাবারেই চলছে তার জীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কিসামত মালভাঙ্গা মৌজার চড়াইপট্টি এলাকায় এখন তার বসবাস। একসময় ধরলা নদীর ওপারে তাদের বসতভিটা থাকলেও নদীভাঙনে সব হারিয়ে পরিবারসহ ওয়াপদা বাঁধের ঢালে আশ্রয় নেন তিনি। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী নদীতে ডুবে মারা যান।
আজিজুর রহমানের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন এবং একমাত্র মেয়ে বাবার বাড়ির পাশেই বসবাস করেন। স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগেও তিনি মেয়ের বাড়িতে থাকলেও পরে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে তার দেখভাল করার মতো পরিবারের কেউ নেই।
প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয় তার। তবুও মানুষের সহায়তার আশায় কখনো বাঁধের রাস্তায় বসে থাকেন, কখনো হাত পেতে যা পান, তাই দিয়ে দিন পার করেন। তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা পান বলে জানা গেলেও সেই অর্থ কে গ্রহণ করেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আজিজুর রহমান বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানরা নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। মানুষের দেওয়া খাবারের ওপরই তার বেঁচে থাকা নির্ভর করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই আজিজুর রহমান অবহেলিত হয়ে পড়েন। আগে ভিক্ষা করে চললেও এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেটিও নিয়মিত করতে পারেন না। তবে এলাকার কিছু মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহায়তা করছেন।
আরেক প্রতিবেশী আয়নাল হক বলেন, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও কেউ নিয়মিত দেখাশোনা করেন না। বর্তমানে বাঁধের পাশে একটি ছোট টিনের ঘরেই তিনি বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে আজিজুর রহমানের ছেলে-মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আজিজুর রহমান অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। তার প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ পরিবারের কেউ তুলে নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়লো ২৬ কেজির ভোল মাছ, বিক্রি হলো কত টাকায়
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী

‘আল্লাহ কেন আমাকে নেয় না’, বাড়ি ছাড়া পঙ্গু বৃদ্ধ বাবার কান্না

Update Time : ১১:৩৬:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বার্ধক্যে পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসার পরিবর্তে অবহেলা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৮০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী আজিজুর রহমানের। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানদের কাছ থেকে আশ্রয় না পেয়ে তিনি বর্তমানে সরকারি খাসজমিতে নির্মিত একটি ছোট টিনের ঘরে বসবাস করছেন। মানুষের সহায়তায় পাওয়া খাবারেই চলছে তার জীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কিসামত মালভাঙ্গা মৌজার চড়াইপট্টি এলাকায় এখন তার বসবাস। একসময় ধরলা নদীর ওপারে তাদের বসতভিটা থাকলেও নদীভাঙনে সব হারিয়ে পরিবারসহ ওয়াপদা বাঁধের ঢালে আশ্রয় নেন তিনি। কয়েক বছর আগে তার স্ত্রী নদীতে ডুবে মারা যান।
আজিজুর রহমানের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন এবং একমাত্র মেয়ে বাবার বাড়ির পাশেই বসবাস করেন। স্থানীয়দের দাবি, কিছুদিন আগেও তিনি মেয়ের বাড়িতে থাকলেও পরে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হন। বর্তমানে তার দেখভাল করার মতো পরিবারের কেউ নেই।
প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও কষ্ট হয় তার। তবুও মানুষের সহায়তার আশায় কখনো বাঁধের রাস্তায় বসে থাকেন, কখনো হাত পেতে যা পান, তাই দিয়ে দিন পার করেন। তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী ভাতা পান বলে জানা গেলেও সেই অর্থ কে গ্রহণ করেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আজিজুর রহমান বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সন্তানরা নিয়মিত খোঁজখবর নেন না। মানুষের দেওয়া খাবারের ওপরই তার বেঁচে থাকা নির্ভর করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই আজিজুর রহমান অবহেলিত হয়ে পড়েন। আগে ভিক্ষা করে চললেও এখন শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেটিও নিয়মিত করতে পারেন না। তবে এলাকার কিছু মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সহায়তা করছেন।
আরেক প্রতিবেশী আয়নাল হক বলেন, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও কেউ নিয়মিত দেখাশোনা করেন না। বর্তমানে বাঁধের পাশে একটি ছোট টিনের ঘরেই তিনি বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে আজিজুর রহমানের ছেলে-মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আজিজুর রহমান অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায়। তার প্রতিবন্ধী ভাতার অর্থ পরিবারের কেউ তুলে নিচ্ছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি