
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনা শেষে মাজারের দানবাক্সে নগদ **৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা** পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়।
গণনা শেষে শনিবার বিকেলে মাজারের দানবাক্সে পাওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি জানান, নগদ টাকার পাশাপাশি **২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ** এবং **১ ভরি ২ আনা রৌপ্য** পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাও রয়েছে।
বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে—৩১.১১ পাউন্ড, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১ হাজার ওমানি বাইসা, ৬৪ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১ হাজার ভিয়েতনামি ডং, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিসরীয় পাউন্ড, ৪০ সেন্ট ইউরো, ১ বাহরাইনি পয়সা এবং ১ কানাডিয়ান ডলার।
এছাড়া নজরানা হিসেবে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া গেছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই একটি নীতিমালা নির্ধারণ করা হবে এবং সেই নীতিমালার আলোকে ভবিষ্যতে দানবাক্সের টাকা গণনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে।
এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগগুলোর সিলগালা খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। তিনটি ডেগ ও তিনটি বড় দানবাক্স খোলার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টাকা গণনা শুরু হয়। অন্তত ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবী এ গণনায় অংশ নেন।
প্রায় **এক মাস চার দিন পর** এবার মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হলো।
এর আগে চলতি বছরের ১২ জুন হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর নির্দেশে ১৮ জুন ডেগে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়।
বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রুটিন বদলি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
নতুন দানবাক্স স্থাপনের চার দিন পর **২২ জুন প্রথম দফায়** দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়। এতে নগদ **১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা** পাওয়া যায়।
এর **১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায়** দানবাক্স খোলা হয়। তখন নগদ **৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা** পাওয়া যায়। এ সময়ও একাধিক দেশের মুদ্রাসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়।
এবার তৃতীয় দফার গণনায় নগদ **৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা** পাওয়া যাওয়ায় মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এবিসি টিভি ডেস্ক 
























