
দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। দেশটির দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিওজে শহরে কয়েক দিনে প্রায় ৯০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে একটি ভয়াবহ ভূমিধসের সৃষ্টি হলে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখান থেকে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা তিনজন বাসিন্দাকে উদ্ধার করেন। তাদের একজনকে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জিওজে শহরে দুজন এবং আশপাশের এলাকায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। ভারী বৃষ্টির কারণে প্রায় ৩৯০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৮০টি বাড়িতে। পাশাপাশি ১২টি স্কুল ও কিন্ডারগার্টেন প্লাবিত হয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র দুই দিনের বৃষ্টিপাতেই দক্ষিণ গিয়ংসাং প্রদেশের কিছু এলাকায় পুরো গ্রীষ্ম মৌসুমের কাছাকাছি পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। জিওজে ও টংইয়ং শহরে দৈনিক বৃষ্টিপাতের রেকর্ডও ভেঙেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী হান সিয়ং-সুক সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ঝুঁকিতে থাকা ও আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, ভারী মৌসুমি বৃষ্টিতে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও প্লাবিত হয়েছে। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির কারণে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং স্কুলগুলোকে অনলাইনে পাঠদান পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলা দফায় দফায় মৌসুমি বৃষ্টি এবং সাম্প্রতিক ঝড়ের কারণে দেশটিতে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই বন্যা ও ভূমিধসের শিকার। দুর্যোগে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
গত ৯ আগস্ট উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি পর্যটন শহর বাগুইওতে ভূমিধসে একটি বাড়ি মাটিচাপা পড়লে শিশুসহ ১০ জন নিহত হন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তারা আহত অবস্থায় ছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়া ও ফিলিপাইনে চলমান দুর্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক 



















