নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ১৬০-এর বেশি; নিখোঁজ শত শত
নেপাল-চীন সীমান্তে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে কোনো ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস, বরফ-পাথরের ভূমিধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত থেকেই এই বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা—ইউএসজিএস।
প্রথমে ঘটনাটি ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে বিশ্লেষণ করে ইউএসজিএস জানায়, এটি আসলে একটি হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ, যা নিচের দিকে নদীতে গিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে। সংস্থাটির ভাষায়, এই ঘটনার পর নদীর নিম্নাঞ্চলে ‘বিপর্যয়কর’ প্রভাব পড়ে।
নেপালের রাসুয়া জেলার লেন্দে নদী ও ভোতে কোশি নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহন ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। স্যাটেলাইট বিশ্লেষণেও ওই এলাকায় বরফ ও পাথরের ধসের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
মৃতের সংখ্যা বাড়ছে
বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালে অন্তত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তিব্বতের জিরং এলাকায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে দুই অঞ্চল মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন্যার পর শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।
তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের তিব্বত অংশের জিরং এলাকায়ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোতে ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সেখানে বহু মানুষ নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে।
চলছে উদ্ধার অভিযান
দুর্যোগের পর নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে জীবিতদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে ভূমিধস, কাদামাটি, ধ্বংসস্তূপ এবং যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সব সম্পদ ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‘৫.২ মাত্রা’ মানে ভূমিকম্প নয়
ইউএসজিএস পরে ঘটনাটির শক্তিকে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেখানে ৫.২ মাত্রার কোনো ভূমিকম্প হয়েছিল। বরং ভূমিধস ও হিমবাহ ধসের সময় সৃষ্ট শক্তিশালী কম্পনকে ভূমিকম্পের মাত্রার সঙ্গে তুলনা করে এই মান দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও বরফের স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ায় এ ধরনের আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। নেপালের এই ঘটনা আবারও হিমালয় অঞ্চলের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি ও হিমবাহ-সম্পর্কিত দুর্যোগের ভয়াবহতা সামনে নিয়ে এসেছে।
desk news 



















