Dhaka ০৯:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আদালতে দেওয়া আসামি সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গামছা দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও গলা চেপে হত্যা করা হয়।

এরপর তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করেন এবং ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুসহ পরিবারের আরেক সদস্য তাদের দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যার পর আসামিরা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে স্বর্ণালংকার একটি বাড়ির পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। তবে ওই বাড়ির বাসিন্দারা বিষয়টি জানতেন না বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে আসামিরা একাধিকবার ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তারা সেদিন মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। অন্যদিকে মুগ্ধের জবানবন্দিতে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা বলা হয়েছে। ইয়াবা সরবরাহকারী শান্ত নামের এক ব্যক্তির পরিচয়ও পুলিশ পেয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  অতিদরিদ্রদের বরাদ্দের মাল ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক তার কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল করার চেষ্টা করা হয়। পরে আসামিরা ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

এদিকে ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির বেশ কিছু অংশের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ঘটনার আগে বা পরে কোনো কিছু দেখে বা শুনে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

একই পরিবারের চারজনকে হত্যা: ময়নাতদন্ত ও জবানবন্দিতে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ১১:৫৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধের কথা বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ আদালতে দেওয়া আসামি সীমান্ত দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস ঘটনার আগে ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলেন এবং ধমক দেন। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গামছা দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর গলায় পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। পরে শব্দ পেয়ে তার স্ত্রী ও মেয়ে ছাদে এলে তাদেরও গলা চেপে হত্যা করা হয়।

এরপর তারা বাড়ির ভেতরে গিয়ে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করেন এবং ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুসহ পরিবারের আরেক সদস্য তাদের দেখে ফেললে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যার পর আসামিরা বাড়ি থেকে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে স্বর্ণালংকার একটি বাড়ির পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। তবে ওই বাড়ির বাসিন্দারা বিষয়টি জানতেন না বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে আসামিরা একাধিকবার ইয়াবা সেবন করেছিলেন। সিদ্ধার্থের জবানবন্দি অনুযায়ী, তারা সেদিন মোট আটটি ইয়াবা সেবন করেন। অন্যদিকে মুগ্ধের জবানবন্দিতে নয়টি ইয়াবা সেবনের কথা বলা হয়েছে। ইয়াবা সরবরাহকারী শান্ত নামের এক ব্যক্তির পরিচয়ও পুলিশ পেয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ  আরও ১০ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের বৈদ্যুতিক তার কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা অচল করার চেষ্টা করা হয়। পরে আসামিরা ছাদ হয়ে পাশের বাড়ির ছাদে গিয়ে দেয়াল টপকে পালিয়ে যান।

এদিকে ময়নাতদন্তের তথ্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির বেশ কিছু অংশের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ঘটনার আগে বা পরে কোনো কিছু দেখে বা শুনে থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।