সারা দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খুনের ঘটনা। রাজনৈতিক কোন্দল, দখল ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব, জমি বিরোধ এবং পারিবারিক-সামাজিক কলহসহ নানা কারণে ঘটছে হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে ২ হাজার ৭৬ জন খুনহয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ২৮৭, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০, মার্চে ৩১৭, এপ্রিলে ২৮৮, মে মাসে ৩১০, জুনে ৩২৬ এবং জুলাইয়ে ২৯৮ জন খুন হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ, আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্যের লড়াই এবং উঠতি সন্ত্রাসীদের তৎপরতায়ও হত্যাকাণ্ড বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কারাগার থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্তি এবং দেশে-বিদেশে থাকা অপরাধীচক্রের সক্রিয়তাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। জুলাইয়ের সহিংসতার সময় পুলিশের বিভিন্ন থানা ও স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, বাহিনীর ১ হাজার ৩১১টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অপরাধবিজ্ঞানী তৌহিদুল হকের মতে, বিচারহীনতা, মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে ধীরগতি অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলতে পারে। অপরাধীর রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহদাত হোসাইন জানান, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও অবৈধ অস্ত্রের আশঙ্কায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Desk News 



















