Dhaka ০১:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু শনিবার বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় টিকা না নেওয়া শিশুরাই নতুন করে হামে আক্রান্ত হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহাখালী রেলগেটে সাততলা ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট মাত্র ১৩৫ দিনে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলেন ৮ বছরের সাজিদ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার’ ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশত

সিলেটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিনের অনশন

{"data":{"capability_name":"capcut_image_text,capcut_photo_editor","product":"vicut","appVersion":"19.0.0","source_type":"vicut","source_platform":"mobile_1","editType":"image_edit","pictureId":"7DB78A05-C81E-4762-9BC1-02BCE0103A40","client_key":"aw889s25wozf8s7e","enterFrom":"new_image","os":"ios","region":"BD"},"tiktok_developers_3p_anchor_params":"{"appVersion":"19.0.0","enterFrom":"new_image","capability_name":"capcut_image_text,capcut_photo_editor","os":"ios","source_type":"vicut","product":"vicut","source_platform":"mobile_1","region":"BD","editType":"image_edit","pictureId":"7DB78A05-C81E-4762-9BC1-02BCE0103A40","client_key":"aw889s25wozf8s7e"}","source_type":"vicut"}

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে চার দিন ধরে অনশন করছেন এক স্কুলছাত্রী। উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম রকিবের বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন ওই তরুণী। কয়েক দিন ধরে সেখানে অবস্থান করায় শারীরিকভাবেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তিন বছরের সম্পর্কের দাবি

ওই স্কুলছাত্রীর দাবি, রকিবের সঙ্গে তার প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে রকিব তার বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। তার ভাষ্য, তাকে বিয়ে না করে উল্টো মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন, রকিবের পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে তারা চলে যান। পরে বিয়ের দাবিতে তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, চার দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি বাড়িটির বারান্দায় অবস্থান করছেন। রকিব তাকে বিয়ে না করলে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।

তবে তরুণীর এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রেমিকের মোবাইল বন্ধ

অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম রকিবের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে রকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাদের পরিবারকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই ওই তরুণী সেখানে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুনঃ  আবারও মেসির সতীর্থ হতে পারেন ডি মারিয়া, আলোচনায় ইন্টার মায়ামি

শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তাদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তার ভাই কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল। অনশন করে বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়টি তিনি যৌক্তিক মনে করেন না।

স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মুরব্বি ও বিএনপি নেতা শিশু মিয়া বলেন, মেয়েটি চার দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় তাকে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও বাড়ির সামনে থাকতে দেখা গেছে।

তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও ছেলেপক্ষের সম্মতি না থাকায় বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।

পুলিশকে জানানো হয়েছে

এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে শাল্লা থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের অপেক্ষা

প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি, অনশন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে রকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে তা ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ওই তরুণীর নিরাপত্তা এবং শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা

সিলেটে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর ৪ দিনের অনশন

Update Time : ০৪:৪৩:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে চার দিন ধরে অনশন করছেন এক স্কুলছাত্রী। উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রফিকুল ইসলাম রকিবের বাড়ির বারান্দায় বসে আছেন ওই তরুণী। কয়েক দিন ধরে সেখানে অবস্থান করায় শারীরিকভাবেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তিন বছরের সম্পর্কের দাবি

ওই স্কুলছাত্রীর দাবি, রকিবের সঙ্গে তার প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে রকিব তার বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে পরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। তার ভাষ্য, তাকে বিয়ে না করে উল্টো মারধর এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন, রকিবের পরিবারের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর ঘরে তালা দিয়ে তারা চলে যান। পরে বিয়ের দাবিতে তিনি ওই বাড়িতেই অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, চার দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি বাড়িটির বারান্দায় অবস্থান করছেন। রকিব তাকে বিয়ে না করলে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানান।

তবে তরুণীর এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রেমিকের মোবাইল বন্ধ

অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম রকিবের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে রকিবের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তাদের পরিবারকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই ওই তরুণী সেখানে অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

শহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তাদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। তার ভাই কোনো অপরাধ করে থাকলে আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত ছিল। অনশন করে বাড়িতে অবস্থান করার বিষয়টি তিনি যৌক্তিক মনে করেন না।

স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় মুরব্বি ও বিএনপি নেতা শিশু মিয়া বলেন, মেয়েটি চার দিন ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। এ সময় তাকে রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও বাড়ির সামনে থাকতে দেখা গেছে।

তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও ছেলেপক্ষের সম্মতি না থাকায় বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।

পুলিশকে জানানো হয়েছে

এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে শাল্লা থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে। শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা ও পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের অপেক্ষা

প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি, অনশন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে স্কুলছাত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে রকিবের পরিবারের পক্ষ থেকে তা ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ওই তরুণীর নিরাপত্তা এবং শারীরিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।