প্রথম পাতা বাংলাদেশ গোয়াইনঘাটে ট্রাকভর্তি অবৈধ কসমেটিকস ও ব্যাটারি জব্দ, গ্রেপ্তার ২
গোয়াইনঘাটে ট্রাকভর্তি অবৈধ কসমেটিকস ও ব্যাটারি জব্দ, গ্রেপ্তার ২
গোয়াইনঘাটে ট্রাকভর্তি অবৈধ কসমেটিকস ও ব্যাটারি জব্দ, গ্রেপ্তার ২ - সংরক্ষিত ছবি।

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলা–এ পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি ট্রাকভর্তি বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি প্রসাধনী ও ব্যাটারি জব্দের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (০৪ মার্চ ২০২৬) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানার একটি চৌকস দল উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিযান পরিচালনা করে। সন্দেহজনকভাবে অবস্থানরত একটি ডিআইজি পিকআপ গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে গাড়ির ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি পণ্য উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব পণ্য সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চোরাইপথে দেশে আনা হয়েছিল।

উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে—
Ponds Bright Beauty Face Wash (100mg)–এর ৯৬ কার্টুন (প্রতি কার্টুনে ২৪ পিস), যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
এছাড়া SH Power Battery–এর ২৫ কার্টুন (প্রতি কার্টুনে ৫ পিস) উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

পুলিশ জানায়, জব্দকৃত পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকারও বেশি। উদ্ধারকৃত এসব পণ্যের কোনো বৈধ আমদানি কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— (১) মো. ফয়েজ আহমদ (২২) ও (২) মো. তাজুল ইসলাম (২১)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা পণ্যের বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় গোয়াইনঘাট দিয়ে প্রায়ই চোরাচালানের চেষ্টা করা হয়। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং চোরাচালান প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ পণ্য আনা-নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারা এ ধরনের অভিযানে পুলিশের তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x