প্রথম পাতা বাংলাদেশ অভিযুক্ত আকাশ গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ
অভিযুক্ত আকাশ গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ
অভিযুক্ত আকাশ গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ - সংরক্ষিত ছবি।

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে দাদি, ফুফু ও এক প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার ১০ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও র‍্যাব-১০-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- পরিবার তাকে বিয়ে না দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আকাশ। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, সোমবার স্থানীয় বাসিন্দা কাবুল হোসেন (৪৯)  রাত সাড়ে ৮টার দিকে চা পান করতে বের হন। রাত ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান, আকাশ মোল্লা তার দাদি আমিনা বেগম (৮০) ও ফুফু রাহেলা বেগমকে (৫৫) কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে।এ সময় প্রতিবেশী কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আসামি তার ওপরও হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম মারা যান। এ সময় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আসামি পালিয়ে যায়। পরে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার নম্বর ৭৯, ধারা ৩০২/৩২৬/৩০৭/৩৪ পেনাল কোড।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x