চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে নাছরুম আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে, হানি ট্রাপের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে আবুল বাশার দাবি করেন, তার প্রবাসী ছেলে সাইফুল ইসলাম মাসুমকে আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে নাছরুম বিয়ে করেন। পরে মাসুমের নামে জমি কেনার কথা বলে নিজের নামেও জমি লিখে নেওয়া হয়।
গত ১৩ এপ্রিল সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় মাসুমের মৃত্যু হয়। এরপর নাছরুম তাদের পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করেন এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আবুল বাশার। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ থানায়ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবুল বাশারের আরও অভিযোগ, বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নাছরুমকে বাবার বাড়িতে থাকতে বলা হলেও গত ১৮ আগস্ট তিনি তার ভগ্নিপতি নয়নসহ কয়েকজনকে নিয়ে আবুল বাশারের বাড়িতে গিয়ে হয়রানি করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নাছরুম প্রথমে অ্যাডভোকেট নওশেদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি এফিডেভিট দেখিয়ে মাসুমের সঙ্গে বিয়ের দাবি করেন। তবে ওই কাগজের সত্যতা যাচাই করতে গেলে অ্যাডভোকেট নওশেদ তা দেননি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দেন। পরে শাহমাহমুদপুর এলাকার এক কাজির স্বাক্ষরযুক্ত কাবিননামা উপস্থাপন করা হয়। আবুল বাশারের দাবি, ওই কাজিও কাবিনটি রেজিস্ট্রি হয়নি বলে লিখিত প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকেও নাছরুমের বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক ব্যক্তিকে বিয়ের নামে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে নাছরুম আক্তার বলেন, তার জীবনে একাধিক বিয়ে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার আগে ৫০টি বিয়ে হলেও সমস্যা নেই। সবাই সব জেনে-শুনেই আমাকে বিয়ে করে।”
নিজেকে সাইফুল ইসলাম মাসুমের স্ত্রী দাবি করে নাছরুম আরও বলেন, “আমি মাসুমের স্ত্রী। মাসুমের বাড়িতেই তিন বছর ধরে সংসার করছি। মাসুম মারা গেছে, তাতে সমস্যা নেই। আমি ওই বাড়িতেই থাকব।”
এ ঘটনায় আবুল বাশার ও তার পরিবার হয়রানি থেকে মুক্তি এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।
চাঁদপুর প্রতিনিধি 



















