Dhaka ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি Coronavirus disease 2019 ভারতের পর এবার চীনে গেলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

খেলব না বলেও ৬ মাসে ১০ ম‍্যাচ, ভারত-পাকিস্তানের কেন এই ‘বন্ধুত্ব’

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০২ Time View

কিছুদিন পরপরই ভারতের ভেতরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচ না খেলার দাবি ওঠে। বিশেষ করে পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলা এবং দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি’ অনুযায়ী পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় খেলায় ভারত কোনো দল পাঠাবে না এবং পাকিস্তানও ভারতে খেলতে পারবে না। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভারত সরকারের এই ঘোষণার পরও গত পাঁচ মাসে দুই দেশ ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মুখোমুখি হওয়া ঘটেছে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর টুর্নামেন্টে। শেষবার পাকিস্তান ভারতে সফর করেছিল ২০১৩ সালে।

আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ড্র হয় না। সাধারণত দলগুলোর শক্তি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গ্রুপ ঠিক করা হয়। তবে প্রচলিত ধারণা হলো—ভারত ও পাকিস্তানকে এক গ্রুপে না রাখার জন্য ড্র করা হয় না। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সর্বোচ্চ দর্শক আগ্রহ ও বাণিজ্যিক মূল্য। ২০২২ সালে এসিসির সাবেক বাণিজ্যিক প্রধান প্রভাকরণ থানরাজ জানিয়েছিলেন, “ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের সম্প্রচার থেকেই এসিসির আয়ের বড় অংশ আসে।”

রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, আইসিসি ও এসিসির সব জাতীয়, বয়সভিত্তিক এবং উদীয়মান খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে দুবাইয়ে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি।
  • ১৪, ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুই দলের লড়াই।
  • ৫ অক্টোবর আইসিসি নারী বিশ্বকাপের লিগ পর্বে কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তান।
  • নভেম্বর–ডিসেম্বর এসিসি রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ এবং অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপেও দুই দলের মুখোমুখি লড়াই।
  • অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২১ ডিসেম্বর
আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এইভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টের ছাতার নিচে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়মিত হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারীর লক্ষ্য থাকে—গ্রুপ পর্বে ম্যাচ ঠিক রাখা যাতে সেমিফাইনাল বা ফাইনালেও দুই দলের সম্ভাব্য মুখোমুখি দেখা যায়।

Tag :
About Author Information

টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম

খেলব না বলেও ৬ মাসে ১০ ম‍্যাচ, ভারত-পাকিস্তানের কেন এই ‘বন্ধুত্ব’

Update Time : ০৬:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কিছুদিন পরপরই ভারতের ভেতরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচ না খেলার দাবি ওঠে। বিশেষ করে পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলা এবং দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তখন চাপের মধ্যে ছিল। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ভারতের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ‘ভারতের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নীতি’ অনুযায়ী পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপক্ষীয় খেলায় ভারত কোনো দল পাঠাবে না এবং পাকিস্তানও ভারতে খেলতে পারবে না। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা বয়কটের সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ভারত সরকারের এই ঘোষণার পরও গত পাঁচ মাসে দুই দেশ ৭ বার মুখোমুখি হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মুখোমুখি হওয়া ঘটেছে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর টুর্নামেন্টে। শেষবার পাকিস্তান ভারতে সফর করেছিল ২০১৩ সালে।

আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ড্র হয় না। সাধারণত দলগুলোর শক্তি ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গ্রুপ ঠিক করা হয়। তবে প্রচলিত ধারণা হলো—ভারত ও পাকিস্তানকে এক গ্রুপে না রাখার জন্য ড্র করা হয় না। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সর্বোচ্চ দর্শক আগ্রহ ও বাণিজ্যিক মূল্য। ২০২২ সালে এসিসির সাবেক বাণিজ্যিক প্রধান প্রভাকরণ থানরাজ জানিয়েছিলেন, “ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের সম্প্রচার থেকেই এসিসির আয়ের বড় অংশ আসে।”

রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও, আইসিসি ও এসিসির সব জাতীয়, বয়সভিত্তিক এবং উদীয়মান খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে দুবাইয়ে ভারত–পাকিস্তান মুখোমুখি।
  • ১৪, ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্ব ও সুপার ফোরে দুই দলের লড়াই।
  • ৫ অক্টোবর আইসিসি নারী বিশ্বকাপের লিগ পর্বে কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তান।
  • নভেম্বর–ডিসেম্বর এসিসি রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ এবং অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপেও দুই দলের মুখোমুখি লড়াই।
  • অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালেও দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ২১ ডিসেম্বর
আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

এইভাবে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও, টুর্নামেন্টের ছাতার নিচে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়মিত হয়ে উঠেছে। আয়োজনকারীর লক্ষ্য থাকে—গ্রুপ পর্বে ম্যাচ ঠিক রাখা যাতে সেমিফাইনাল বা ফাইনালেও দুই দলের সম্ভাব্য মুখোমুখি দেখা যায়।