Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা ৩৩ কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পাচ্ছে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরদের যোগদান এক দফা দাবিতে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কি না জানি না: ট্রাম্প বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান রেলস্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েও চাকরি হয়নি ক্লীন্টনের, নদীভাঙনে হারিয়েছেন স্থায়ী ঠিকানা পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কড়া বার্তা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

চিনিতে ৬০ কোটি লোকসান, অ্যালকোহলে ২২৪ কোটি লাভ—কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি

 

চিনি উৎপাদনে বছরের পর বছর লোকসান গুনলেও ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি, যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার মূল চালিকাশক্তি ছিল ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে এ ইউনিটে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি।

প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্টিলারি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ইউনিট পরিচালনা করে আসছে। চিনি কারখানায় ধারাবাহিক লোকসান হলেও ডিস্টিলারিসহ অন্যান্য ইউনিটের আয় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সেটি ছিল তখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা। এক বছরের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে কেরু।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই বেড়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফায়। তবে একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে ৬০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হওয়ায় কেরুর উৎপাদন কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চিত্রে তাই স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—চিনি উৎপাদনে বড় অঙ্কের লোকসান, আর ডিস্টিলারি ইউনিটে বিপুল মুনাফা। একদিকে লোকসানি চিনি কারখানা, অন্যদিকে লাভজনক ডিস্টিলারি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এবার রেকর্ড ১৬৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

আরও পড়ুনঃ  ‘আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত’
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিলেটে দুর্গাপূজায় আতশবাজি নিষেধ, গুজব ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা

চিনিতে ৬০ কোটি লোকসান, অ্যালকোহলে ২২৪ কোটি লাভ—কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি

Update Time : ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

চিনি উৎপাদনে বছরের পর বছর লোকসান গুনলেও ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি, যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার মূল চালিকাশক্তি ছিল ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে এ ইউনিটে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি।

প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্টিলারি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ইউনিট পরিচালনা করে আসছে। চিনি কারখানায় ধারাবাহিক লোকসান হলেও ডিস্টিলারিসহ অন্যান্য ইউনিটের আয় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সেটি ছিল তখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা। এক বছরের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে কেরু।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই বেড়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফায়। তবে একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে ৬০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হওয়ায় কেরুর উৎপাদন কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চিত্রে তাই স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—চিনি উৎপাদনে বড় অঙ্কের লোকসান, আর ডিস্টিলারি ইউনিটে বিপুল মুনাফা। একদিকে লোকসানি চিনি কারখানা, অন্যদিকে লাভজনক ডিস্টিলারি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এবার রেকর্ড ১৬৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

আরও পড়ুনঃ  ‘এশিয়ার নোবেল’ খ্যাত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান