Dhaka ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

চিনিতে ৬০ কোটি লোকসান, অ্যালকোহলে ২২৪ কোটি লাভ—কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি

 

চিনি উৎপাদনে বছরের পর বছর লোকসান গুনলেও ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি, যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার মূল চালিকাশক্তি ছিল ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে এ ইউনিটে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি।

প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্টিলারি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ইউনিট পরিচালনা করে আসছে। চিনি কারখানায় ধারাবাহিক লোকসান হলেও ডিস্টিলারিসহ অন্যান্য ইউনিটের আয় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সেটি ছিল তখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা। এক বছরের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে কেরু।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই বেড়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফায়। তবে একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে ৬০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হওয়ায় কেরুর উৎপাদন কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চিত্রে তাই স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—চিনি উৎপাদনে বড় অঙ্কের লোকসান, আর ডিস্টিলারি ইউনিটে বিপুল মুনাফা। একদিকে লোকসানি চিনি কারখানা, অন্যদিকে লাভজনক ডিস্টিলারি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এবার রেকর্ড ১৬৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

আরও পড়ুনঃ  র‍্যাব-৯ এর অভিযানে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি 'জয়নুল আবেদিন' সিলেট থেকে গ্রেফতার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

চিনিতে ৬০ কোটি লোকসান, অ্যালকোহলে ২২৪ কোটি লাভ—কেরুর রেকর্ড মুনাফা ১৬৫ কোটি

Update Time : ০৪:২২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

চিনি উৎপাদনে বছরের পর বছর লোকসান গুনলেও ডিস্টিলারি ইউনিটের মুনাফায় রেকর্ড গড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ১৬৫ কোটি টাকারও বেশি, যা কেরুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার মূল চালিকাশক্তি ছিল ডিস্টিলারি ইউনিট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশি-বিদেশি মদ উৎপাদন ও বিক্রি থেকে এ ইউনিটে প্রায় ২২৪ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে লোকসান হয়েছে ৬০ কোটি টাকার বেশি।

প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্টিলারি, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য ইউনিট পরিচালনা করে আসছে। চিনি কারখানায় ধারাবাহিক লোকসান হলেও ডিস্টিলারিসহ অন্যান্য ইউনিটের আয় প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ১২৯ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সেটি ছিল তখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা। এক বছরের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে কেরু।

কেরুর ডিস্টিলারি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রাজিবুল হাসান বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরেন লিকারের উৎপাদন ও বিক্রি—দুটিই বেড়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে মুনাফা হয়েছিল ১৮৯ কোটি টাকা। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ায় ডিস্টিলারি ইউনিটের আয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক মুনাফায়। তবে একই সময়ে চিনি উৎপাদন ইউনিটে ৬০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হওয়ায় কেরুর উৎপাদন কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক চিত্রে তাই স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে—চিনি উৎপাদনে বড় অঙ্কের লোকসান, আর ডিস্টিলারি ইউনিটে বিপুল মুনাফা। একদিকে লোকসানি চিনি কারখানা, অন্যদিকে লাভজনক ডিস্টিলারি—এই দুইয়ের সমন্বয়েই এবার রেকর্ড ১৬৫ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা করেছে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কুইন সুলিভানকে চড়, জরিমানা গুনলেন মেসি