Dhaka 1:18 am, Wednesday, 29 July 2026
শিরোনাম :
টম ক্রুজের পদবি বাদ দিলেন মেয়ে সুরি, মায়ের মধ্যনাম ‘নোয়েল’ এখন তার শেষ নাম সীমান্তের প্রান্তিক জনপদে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালাচ্ছে গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালীগঞ্জে বিধবা ও প্রতিবন্ধী পরিবারের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল, অভিযুক্তের ৫ মাসের জেল সহ জরিমানা আদমদীঘি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারী সহ গ্রেপ্তার-৮!! ভূরুঙ্গামারীতে যৌথ অভিযানে ১৫ ফুটের গাঁজাগাছসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি তারেক রহমান: কাছ থেকে দেখা এক নেতৃত্ব Online casino gaming opties: hoe je het meeste uit je ervaring haalt হাম উপসর্গে আর ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯০৮ জন

তথ্য সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে আদালতের শোকজ

Update Time : 11:47:26 am, Thursday, 19 February 2026

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে কোন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুলি করার আদেশ দেন, সেই তথ্য সরবরাহ না করায় জেলা প্রশাসককে (ডিসি) কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন আদালত। সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার ৮ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তাজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তাঁর স্বামী নিহত হয়েছেন বলে বাদী মামলায় অভিযোগ করেন।

পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের পরিদর্শক নূর মোহাম্মদকে দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত বছরের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বিজিবির শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালককে পৃথক দুটি আবেদন পাঠান। এতে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও কাগজপত্র চাওয়া হয়। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোন ম্যাজিস্ট্রেট সেদিন গুলির আদেশ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে বিজিবির কাছে জানতে চাওয়া হয়, সেদিন ঘটনাস্থলে কোন কোন সদস্য ছিলেন।

তবে তথ্য না পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে বিষয়টি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য সরবরাহের আদেশ দেন। এ আদেশের পর বিজিবি তথ্য সরবরাহ করেন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তকারী কর্মকর্তার চাহিত তথ্য প্রেরণে নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে আর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে আরও কয়েক দফা আদালত তথ্য চেয়েও পাননি।

এ অবস্থায় ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ওই দিন এক আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো তথ্য সরবরাহ না করায় মামলার তদন্তকাজ বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলাটি দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালত থেকে আদেশ প্রদান করার দীর্ঘদিন পরও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার চাওয়া তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।

আদালতের নোটিশে বলা হয়, এমন কাজকে আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারকাজে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য করে কেন তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যাবে না, তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য জেলা প্রশাসককে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসক কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।