Dhaka ০১:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

নাগরিক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির

নাগরিক সংবর্ধনার জন্য গঠিত কমিটি নিয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। দলের সঙ্গে থাকা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীতে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে অনুষ্ঠানের আগে সিলেট মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাগরিক কমিটি গঠন এবং সংবর্ধনা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। দলটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণে তারা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মহানগর বিএনপির নেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর নিয়ে তাদের কোনো বিরোধিতা নেই। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো এবং নাগরিক সংবর্ধনা বয়কটকে তারা দুটি পৃথক বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, আপত্তি কেবল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়ে।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, একটি নাগরিক সংবর্ধনায় নগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই ভারসাম্য রাখা হয়নি বলে তারা মনে করছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নাগরিক কমিটি গঠনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা মনে করেন। এ কারণে মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনও দলের অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে স্বাগত জানানোর কর্মসূচি ছিল। তবে সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেননি।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিদিন অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যান কর্মকর্তার বাসায়, দুই নারী কর্মচারী

এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে নাগরিক সংবর্ধনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিকে নাগরিকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানোর একটি আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে নগরজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিএনপির সংবর্ধনা বয়কটের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক কমিটি গঠন ও সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে বিএনপির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

রাষ্ট্রপতির সফরকে স্বাগত জানালেও নাগরিক সংবর্ধনা বয়কটের মাধ্যমে সিলেট মহানগর বিএনপি তাদের সাংগঠনিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

নাগরিক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা বয়কট সিলেট মহানগর বিএনপির

Update Time : ০৫:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগরিক সংবর্ধনার জন্য গঠিত কমিটি নিয়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতির সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। দলের সঙ্গে থাকা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীতে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে অনুষ্ঠানের আগে সিলেট মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাগরিক কমিটি গঠন এবং সংবর্ধনা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। দলটির অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণে তারা অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মহানগর বিএনপির নেতারা বলেন, রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর নিয়ে তাদের কোনো বিরোধিতা নেই। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো এবং নাগরিক সংবর্ধনা বয়কটকে তারা দুটি পৃথক বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, আপত্তি কেবল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়ে।

দলটির নেতাদের ভাষ্য, একটি নাগরিক সংবর্ধনায় নগরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সেই ভারসাম্য রাখা হয়নি বলে তারা মনে করছেন। এ নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, নাগরিক কমিটি গঠনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে তারা মনে করেন। এ কারণে মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।

মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনও দলের অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে স্বাগত জানানোর কর্মসূচি ছিল। তবে সিটি করপোরেশনের আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেননি।

আরও পড়ুনঃ  কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সিলেটবাসী

এদিকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে নাগরিক সংবর্ধনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিকে নাগরিকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানোর একটি আয়োজন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে নগরজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিএনপির সংবর্ধনা বয়কটের সিদ্ধান্তের বিষয়টি সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাগরিক কমিটি গঠন ও সংবর্ধনা আয়োজন নিয়ে বিএনপির উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

রাষ্ট্রপতির সফরকে স্বাগত জানালেও নাগরিক সংবর্ধনা বয়কটের মাধ্যমে সিলেট মহানগর বিএনপি তাদের সাংগঠনিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।