Dhaka ০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে টাকা দেওয়ার রেওয়াজ ছিল, এবার কাউকে ১০ টাকাও দিইনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  • মানিকগঞ্জ
  • Update Time : ০৩:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮ Time View

আগের সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এবারের নির্বাচনে কাউকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ১০ টাকাও দিইনি, চায়ওনি।’

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউএনও, ওসি ও ডিসিদের অর্থ দেওয়া হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনওরা ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং ওসিরাও বিপুল অঙ্কের টাকা পেতেন। পুরো ব্যবস্থাকে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতিতে ভরা বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দিই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা ছাড়াই এবার কর্মকর্তারা আগের চেয়ে বেশি কাজ করেছেন এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। আগের সময়ে কর্মকর্তাদের ওপর একদিকে চাকরি হারানোর ভয়, অন্যদিকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চাপ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সেই সময় এখন চলে গেছে। সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সময়ে ঠিকাদারদের বিভিন্ন কাজের জন্য মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হতো এবং নানা পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আরও বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারেও নিষেধাজ্ঞা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অফ করাপশন’—এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সভায় তিনি মাদক, জুয়া, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খান রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মিষ্টির জীবন নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ খেলে উধাও জীবন মিয়া, অতঃপর…

নির্বাচনে ডিসি-ইউএনও-ওসিকে টাকা দেওয়ার রেওয়াজ ছিল, এবার কাউকে ১০ টাকাও দিইনি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Update Time : ০৩:৪৩:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

আগের সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়া হতো বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তবে এবারের নির্বাচনে কাউকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে ১০ টাকাও দিইনি, চায়ওনি।’

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউএনও, ওসি ও ডিসিদের অর্থ দেওয়া হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনওরা ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং ওসিরাও বিপুল অঙ্কের টাকা পেতেন। পুরো ব্যবস্থাকে তিনি ঘুষ ও দুর্নীতিতে ভরা বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘এবার একটা ইলেকশন হয়েছে, ১০ টাকা কেউ পেয়েছেন? আমি দিই নাই কাউকে ১০ টাকা, চায়ও নাই।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা ছাড়াই এবার কর্মকর্তারা আগের চেয়ে বেশি কাজ করেছেন এবং জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। আগের সময়ে কর্মকর্তাদের ওপর একদিকে চাকরি হারানোর ভয়, অন্যদিকে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চাপ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সেই সময় এখন চলে গেছে। সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এবং সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সময়ে ঠিকাদারদের বিভিন্ন কাজের জন্য মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের দপ্তরে ঘোরাঘুরি করতে হতো এবং নানা পর্যায়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নার্স ও চিকিৎসকদের বদলির ক্ষেত্রেও তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আরও বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ছিল। পুরো ব্যবস্থাই দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মেঘনা আলমের ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে ফের আলোচনা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টোটাল সিনারি ওয়াজ ফুল অফ করাপশন’—এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

সভায় তিনি মাদক, জুয়া, স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজ খান রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।