Dhaka ০২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, জামায়াতকর্মী আটক ৫ হাজার ইয়াবাসহ এএসআই হাতেনাতে ধরা ১৩ মাসেও সাজিদের ফোনের লক খুলতে পারেনি সিআইডি! স্নাতক পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি পুনর্বহালের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মামলার জট কমাতে রাষ্ট্রপতির বড় নির্দেশনা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে, ‘কার এত জ্বালা?’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দিরাইয়ে নদী থেকে নারীর লাশ উদ্ধার মাদরাসা শিক্ষকই ধ র্ষ ণের শিকার ১১ বছরের শি শু টির নবজাতকের বাবা আলোচিত শি.শু আছিয়া ধ র্ষ ণ ও হত্যা মামলায় রায় আজ ওসমানী হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান সিপিডির

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ৫০৮ Time View

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটটি নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময় এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমুখী অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, আর্থিক খাতের সমস্যা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির মতো বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি। পাশাপাশি আগামী দিনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। 

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সিপিডি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। 
তিনি বলেন, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতার ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা, বিকট বিস্ফোরণ

সিপিডি জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ, জামায়াতকর্মী আটক

বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান সিপিডির

Update Time : ০২:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটটি নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময় এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি বহুমুখী অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ, আর্থিক খাতের সমস্যা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির মতো বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি। পাশাপাশি আগামী দিনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। 

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে নীতি নির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। এর জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে লক্ষ্যভিত্তিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সিপিডি।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। 
তিনি বলেন, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতার ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের কথা অস্বীকার চীনা কোম্পানির

সিপিডি জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।