Dhaka ১১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর… লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনের উদ্ধার কার্যক্রম চলছে, তদন্ত কমিটি গঠন ১৩ বছর পর ধরা পড়লেন ছদ্মবেশে থাকা চঞ্চল সৈকতে গোসলে নেমে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু, উদ্ধার ১৫ তুলসীগঙ্গা নদী থেকে বহুমূল্য কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার বিষ হাতে হৃদয়ের বাড়িতে কিশোরী, বলছে ‘বিয়ে করতেই হবে’ ১০ বছর বয়সেই কুরআনের হাফেজ আশ্রাফ তাহসিফের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মিলল যে দৃশ্য ‘ভালোবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়’, দেড় দশক ধরে স্ত্রীর কবর পরিষ্কার করছেন আইনজীবী সিলেটে রায়হান হত্যা: এসআই আকবরের মৃত্যুদন্ড, দুজনের যাবজ্জীবন, ৩ জনের ৭ বছরের জেল

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেটে বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে, নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

 রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতিকে ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের পদ্ধতি, স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং নগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে মতপার্থক্য।

সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির সফর হওয়ায় নগরীতে এ আয়োজন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের অসন্তোষের কথা জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, এ ধরনের নাগরিক আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন ছিল।

আয়োজন নিয়ে নেতাদের আপত্তি

অনুষ্ঠান বর্জনকারী নেতাদের অভিযোগ, নাগরিক সংবর্ধনার মতো একটি বড় আয়োজনের বিষয়ে মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। তাঁদের মতে, নগরীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এমন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

তাঁদের আরও অভিযোগ, আয়োজনের ক্ষেত্রে কয়েকজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও মহানগর বিএনপির একটি অংশকে প্রত্যাশিতভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তাঁদের এই অবস্থানকে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে সাংগঠনিক সমন্বয়ের ঘাটতি হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যদের মতে নগর বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই বিভিন্ন ঘটনায় প্রকাশ্যে আসছে।

প্রশাসকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দলীয় পরিচয়ে নয়, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে ঢাকা-মাওয়া সড়কে ১১১ দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ১৪

তাঁর দাবি, আয়োজনটি কোনো দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক প্রটোকল অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কেউ দলীয় বিরোধের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি কি না—এমন বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

নগর বিএনপির পুরোনো মতপার্থক্য

সিলেটের বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নগরীর বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে একাধিক পক্ষের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেই মতপার্থক্যের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতারা তাঁদের অবস্থানকে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকাটা নতুন বিষয় নয়। তবে রাষ্ট্রীয় বা নাগরিক পর্যায়ের বড় কোনো কর্মসূচিতে সেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সিটি নির্বাচনকে ঘিরেও আলোচনা

সিলেটের নগর রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী, নেতৃত্ব এবং দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে নাগরিক সংবর্ধনা ঘিরে বর্তমান বিরোধের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক কতটা সরাসরি, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও এক নয়।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থনভিত্তি নিয়ে আলোচনা বাড়ে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটিকেও অনেকে বৃহত্তর নগর রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখছেন।

সামনে কী হতে পারে

নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হলেও এ ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা এখনো থামেনি। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  আমি নিজেই মদ খেয়েছি,সিলেটের সেই তরুণী

একদিকে দলীয় নেতাদের একটি অংশ অনুষ্ঠান আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ এবং দলীয় কর্মসূচি নয়।

ফলে একই ঘটনাকে দুই পক্ষ দুইভাবে ব্যাখ্যা করছে। এই অবস্থায় বিষয়টি ভবিষ্যতে কীভাবে এগোয় এবং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা শেষ পর্যন্ত সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, দলের স্থানীয় নেতারা এ মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেন এবং নগর রাজনীতিতে এর পরবর্তী প্রতিফলন কী হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর…

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেটে বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্যে, নগর রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

Update Time : ১১:০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 রাষ্ট্রপতির সিলেট সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতিকে ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠান আয়োজনের পদ্ধতি, স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ততা এবং নগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে মতপার্থক্য।

সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির সম্মানে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির সফর হওয়ায় নগরীতে এ আয়োজন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

তবে অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁদের অসন্তোষের কথা জানান। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, এ ধরনের নাগরিক আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন ছিল।

আয়োজন নিয়ে নেতাদের আপত্তি

অনুষ্ঠান বর্জনকারী নেতাদের অভিযোগ, নাগরিক সংবর্ধনার মতো একটি বড় আয়োজনের বিষয়ে মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি। তাঁদের মতে, নগরীর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এমন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

তাঁদের আরও অভিযোগ, আয়োজনের ক্ষেত্রে কয়েকজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও মহানগর বিএনপির একটি অংশকে প্রত্যাশিতভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি। এ কারণে তাঁরা অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে তাঁদের এই অবস্থানকে কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে সাংগঠনিক সমন্বয়ের ঘাটতি হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যদের মতে নগর বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যই বিভিন্ন ঘটনায় প্রকাশ্যে আসছে।

প্রশাসকের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দলীয় পরিচয়ে নয়, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান, আটক ৬১

তাঁর দাবি, আয়োজনটি কোনো দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক প্রটোকল অনুসরণ করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কেউ দলীয় বিরোধের কারণে অনুষ্ঠানে অংশ নেননি কি না—এমন বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

নগর বিএনপির পুরোনো মতপার্থক্য

সিলেটের বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্যের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নগরীর বিভিন্ন কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে একাধিক পক্ষের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

সাম্প্রতিক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেই মতপার্থক্যের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতারা তাঁদের অবস্থানকে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকাটা নতুন বিষয় নয়। তবে রাষ্ট্রীয় বা নাগরিক পর্যায়ের বড় কোনো কর্মসূচিতে সেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে চলে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

সিটি নির্বাচনকে ঘিরেও আলোচনা

সিলেটের নগর রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থী, নেতৃত্ব এবং দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন পক্ষের সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

তবে নাগরিক সংবর্ধনা ঘিরে বর্তমান বিরোধের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক কতটা সরাসরি, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যও এক নয়।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্বের প্রশ্নটি সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থনভিত্তি নিয়ে আলোচনা বাড়ে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাটিকেও অনেকে বৃহত্তর নগর রাজনীতির প্রেক্ষাপটে দেখছেন।

সামনে কী হতে পারে

নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ হলেও এ ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা এখনো থামেনি। বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  হোটেল কক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ, রক্তাক্ত স্ত্রী ও শিশু উদ্ধার

একদিকে দলীয় নেতাদের একটি অংশ অনুষ্ঠান আয়োজনের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি ছিল প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ এবং দলীয় কর্মসূচি নয়।

ফলে একই ঘটনাকে দুই পক্ষ দুইভাবে ব্যাখ্যা করছে। এই অবস্থায় বিষয়টি ভবিষ্যতে কীভাবে এগোয় এবং স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নেতাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা শেষ পর্যন্ত সিলেটের স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, দলের স্থানীয় নেতারা এ মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেন এবং নগর রাজনীতিতে এর পরবর্তী প্রতিফলন কী হয়।