Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেমিকা রেহানাকে হারানোর সন্দেহে শাহাব উদ্দিনকে হত্যা

সিলেট নগরীর শাহপরাণ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার পর এ ধারণার কথা জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার এসব তথ্য জানান।

কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া জালাল (৩৫)-এর সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের সম্পর্ক বিয়ের পর্যায় পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের মনে সন্দেহ তৈরি হয় যে রেহানা হয়তো তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানা পারভীনের নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো। বিষয়টি জানতে পেরে জালালের মনে সন্দেহ আরও গভীর হয়। রেহানার সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে কি না—এমন সন্দেহ থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে জালাল শাহাব উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ, ব্যক্তি বা বিষয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন তাঁর স্বজনেরা। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে বাবার আহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। শাহাব উদ্দিনের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।

আরও পড়ুনঃ  কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: আজ দেশে ফিরছে ৬ জনের মরদেহ

ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

চারখাই বাজারে ব্যবসা করতেন শাহাব উদ্দিন

নিহত শাহাব উদ্দিন মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি শাহপরাণ এলাকায় বসবাস করতেন। চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল।

শাহাব উদ্দিন ছিলেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তাঁর এক ছেলে বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধের কথা তাঁদের জানা ছিল না। হঠাৎ করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত।

হত্যার পরদিন গ্রেপ্তার জালাল

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালাল নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত, ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাফন সম্পন্ন

ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত সন্দেহের বিষয়টি সামনে এলেও এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

প্রেমিকা রেহানাকে হারানোর সন্দেহে শাহাব উদ্দিনকে হত্যা

Update Time : ০৪:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সিলেট নগরীর শাহপরাণ এলাকায় ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে (৬৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রেমঘটিত সম্পর্কের জেরে সন্দেহ থেকে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রযুক্তিগত বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার পর এ ধারণার কথা জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার এসব তথ্য জানান।

কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া জালাল (৩৫)-এর সঙ্গে রেহানা পারভীন নামের এক নারীর প্রেমঘটিত সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তাদের সম্পর্ক বিয়ের পর্যায় পর্যন্ত গড়ানোর কথা ছিল। তবে গত প্রায় তিন মাস ধরে বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অনিশ্চয়তার মধ্যে জালালের মনে সন্দেহ তৈরি হয় যে রেহানা হয়তো তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে রেহানা পারভীনের নিয়মিত কথাবার্তা ও হাসিঠাট্টা হতো। বিষয়টি জানতে পেরে জালালের মনে সন্দেহ আরও গভীর হয়। রেহানার সঙ্গে শাহাব উদ্দিনের কোনো সম্পর্ক তৈরি হয়েছে কি না—এমন সন্দেহ থেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে জালাল শাহাব উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ পর্যালোচনা করেই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কারণ, ব্যক্তি বা বিষয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

গত রোববার দিবাগত রাতে নিজ বাসার কাছ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করেন তাঁর স্বজনেরা। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের ছোট ছেলে রেদোয়ান আহমদ জানান, স্থানীয় একজনের কাছ থেকে বাবার আহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বাবাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। শাহাব উদ্দিনের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের তিনটি আঘাতের চিহ্ন ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটে একদিনে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত

ঘটনার পরপরই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে তাঁদের জানা ছিল না।

চারখাই বাজারে ব্যবসা করতেন শাহাব উদ্দিন

নিহত শাহাব উদ্দিন মূলত সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি শাহপরাণ এলাকায় বসবাস করতেন। চারখাই বাজারে তাঁর ভোগ্যপণ্যের ব্যবসা ছিল।

শাহাব উদ্দিন ছিলেন দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা। তাঁর এক ছেলে বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে কারও শত্রুতা বা বিরোধের কথা তাঁদের জানা ছিল না। হঠাৎ করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত।

হত্যার পরদিন গ্রেপ্তার জালাল

হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শাহপরাণ মাজার এলাকা থেকে জালাল নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত, ভিডিও ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাফন সম্পন্ন

ময়নাতদন্ত শেষে গত বুধবার দুপুরে শাহাব উদ্দিনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে বাদ আসর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত সন্দেহের বিষয়টি সামনে এলেও এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।