
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ৫ আগস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত দিন। গত বছরের এই দিনে দীর্ঘ আন্দোলন, সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
৫ আগস্ট সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যাত্রাবাড়ী, চানখারপুল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শাহবাগ, আমিনবাজার ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের খবর প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় হতাহতের তথ্যও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে।
দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য দেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। কোথাও আনন্দ মিছিল, কোথাও সমাবেশ এবং কোথাও রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। একই সময়ে গণভবনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় অনুপ্রবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
বিকেলে সেনাবাহিনী প্রধান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগের ঘোষণা দেন। এরপর দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি হয়। তবে ওই দিনের ঘটনাবলি ও এর মূল্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ফলে ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত দিন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এবিসি টিভি ডেস্ক 



















