Dhaka ০২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ধ র্ষ ণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয় চা দোকানি, অতঃপর… সকালে হাঁটতে বেরিয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল নারীর ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না’—প্রতি রাতে ১/২ জন ছাত্রকে হুজুরের রুমে নিতেন পত্রিকা অফিস থেকে সাংবাদিকের মরদেহ উদ্ধার সিলেটে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ব্ল্যাকমেল, এআই দিয়ে নারীর ছবি বিকৃত করে ছড়ানোর অভিযোগ সাগর-রুনি হত্যা: সাড়ে ১৩ বছর কারাগারে সিলেটের এনাম, মেলেনি সম্পৃক্ততার প্রমাণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর ক্রীড়া সংস্থায় সাবেক ছাত্রদল নেতাদের জায়গা বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী সিকৃবি ভিসির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন, ১৮ অভিযোগ তুলে লিফলেট জৈন্তাপুরে লরি থেকে এস্কেভেটর পড়ে চালকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ, দেড় দশকে বাংলাদেশেও গুম প্রায় ৭০০

  • desk news
  • Update Time : ১১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩২ Time View

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। বিশ্বজুড়ে গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের অমলিন স্মৃতি আর অন্তহীন অপেক্ষার গল্পে গাঁথা এ দিনটি বিচারহীনতার নিদারুণ বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয় সকলকে। বাংলাদেশেও গেল দেড় দশকে গুমের শিকার হয়েছেন প্রায় সাতশ’ মানুষ। গুম হওয়া এসব ব্যক্তির ফিরে আসার প্রতীক্ষা এখনো সময় পার করছেন স্বজনরা।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনলেই এখনো চমকে ওঠেন স্বজনরা। ভাবেন, এই বুঝি ফিরল প্রিয়জন। কিন্তু দরজা খুলতেই সামনে শুধুই শূন্যতা। এভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দেশের শত শত পরিবার।

বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামী, সবাই প্রিয়জনদের ফিরে আসার পথ চেয়ে পার করছেন দীর্ঘসময়। দিন, মাস, বছর যায়, আর আসে। কিন্তু আসে না প্রিয়জন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অধিকার এবং সম্প্রতি সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত গুমের শিকার হয়েছেন ৭০৯ জন। এর মধ্যে ২০০৯ –২০১৩ সালে গুমের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এসময় গুমের শিকার হন মোট ৫৩ জন। আর ২০১৪–২০১৮ পর্যন্ত গুমের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এ কয়েক বছরে গুমের শিকার হয়েছেন ৩৬০ জন। এরপর ২০১৯ – ২০২৩ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপ এবং ২০২১ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর গুমের বার্ষিক সংখ্যা কিছুটা কমলেও সেসময় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ঐ সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন ১০৫ জন।

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অনেকের লাশ উদ্ধার হয়েছে, কাউকে দীর্ঘদিন পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, আবার অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি। যাদের কোনো খোঁজ মেলেনি, স্বজনরা এখনো তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা কেবল একটি আশ্বাসের অপেক্ষায় নেই, তারা চান প্রিয়জনের কোল খালি করা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। চান সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে গুমের মতো ঘটনা আর না ঘটুক।

আরও পড়ুনঃ  এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ধ র্ষ ণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয় চা দোকানি, অতঃপর…

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ, দেড় দশকে বাংলাদেশেও গুম প্রায় ৭০০

Update Time : ১১:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। বিশ্বজুড়ে গুম হওয়া মানুষের স্বজনদের অমলিন স্মৃতি আর অন্তহীন অপেক্ষার গল্পে গাঁথা এ দিনটি বিচারহীনতার নিদারুণ বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয় সকলকে। বাংলাদেশেও গেল দেড় দশকে গুমের শিকার হয়েছেন প্রায় সাতশ’ মানুষ। গুম হওয়া এসব ব্যক্তির ফিরে আসার প্রতীক্ষা এখনো সময় পার করছেন স্বজনরা।

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনলেই এখনো চমকে ওঠেন স্বজনরা। ভাবেন, এই বুঝি ফিরল প্রিয়জন। কিন্তু দরজা খুলতেই সামনে শুধুই শূন্যতা। এভাবে বছরের পর বছর ধরে এমন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দেশের শত শত পরিবার।

বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামী, সবাই প্রিয়জনদের ফিরে আসার পথ চেয়ে পার করছেন দীর্ঘসময়। দিন, মাস, বছর যায়, আর আসে। কিন্তু আসে না প্রিয়জন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অধিকার এবং সম্প্রতি সরকারের গঠিত গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত গুমের শিকার হয়েছেন ৭০৯ জন। এর মধ্যে ২০০৯ –২০১৩ সালে গুমের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এসময় গুমের শিকার হন মোট ৫৩ জন। আর ২০১৪–২০১৮ পর্যন্ত গুমের মাত্রা সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এ কয়েক বছরে গুমের শিকার হয়েছেন ৩৬০ জন। এরপর ২০১৯ – ২০২৩ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপ এবং ২০২১ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির পর গুমের বার্ষিক সংখ্যা কিছুটা কমলেও সেসময় তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ঐ সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন ১০৫ জন।

এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অনেকের লাশ উদ্ধার হয়েছে, কাউকে দীর্ঘদিন পর গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, আবার অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি। যাদের কোনো খোঁজ মেলেনি, স্বজনরা এখনো তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা কেবল একটি আশ্বাসের অপেক্ষায় নেই, তারা চান প্রিয়জনের কোল খালি করা প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। চান সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে গুমের মতো ঘটনা আর না ঘটুক।

আরও পড়ুনঃ  হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২২৮; সিলেটে ভর্তি ১১৪