
পোষা বিড়ালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ নগরের একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে ঢুকে এক চিকিৎসককে মারধর, চিকিৎসাকেন্দ্র ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদার দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগী চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে।
শনিবার রাতে নগরীর জিলা স্কুলের পিছনের গলিতে ডক্টরস পেট কেয়ার সেন্টারে অতর্কিত সংঘবদ্ধ চক্রের হামলা, চিকিৎসককে মারধর ও ভাঙচুরের ভিডিও ভাইরাল হয়। এঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক মো. আশিকুর রহমান শনিবার কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে আজ অভিযোগটি এফআইআরভুক্ত করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত আফরিন রশিদ সেঁজুতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর সোমবার সকালে ওই চক্রটি ডক্টরস পেট কেয়ারের সাইনবোর্ডটিও খুলে নিয়ে যেতে দেখা যায় সিসিটিভির ফুটেজে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিবিরুল ইসলাম জানান, আমরা অভিযোগ পেয়েছি, মামলাও হয়েছে। সেজুঁতি নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের নিয়ে কাজ করছি। একজন চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে তাকে এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এদিকে হামলার সিসি ফুটেজ দেখে জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান (প্রতীক) কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উল্লেখ, ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামক ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে পোষা প্রাণীর চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক উপকরণ বিক্রি করা হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী সঙ্গীয়দেও নিয়ে চেম্বারে ঢুকে জুতা খুলে চিকিৎসককে পেটাতে থাকেন। পাশে থাকা নগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তালহাজুর রহমান (প্রতীক) ঘটনাটি মুঠোফোনে ধারণ করেন এবং একপর্যায়ে নিজেও চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারেন।
পরে শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগে মো. আশিকুর রহমান হামলায় জড়িত মহানগর ছাত্রদল নেতা তালহাজুর রহমান প্রতীক, আফরিন রশিদ সেঁজুতি ও সাকিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ জনকে উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে আশিকুরের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা চেম্বারে ঢুকে চাঁদার জন্য চাপ দেন। প্রতিবাদ জানালে সিসি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে জুতা ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।
এসময় তাকে বাঁচাতে দোকানের কর্মী ঈশান আহমেদ, ঈশানের স্ত্রী তাওহিয়া আক্তার এবং চিকিৎসকের স্ত্রী সাজনিন তাসনিন সিদ্দিকী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর ও টানাহেঁচড়া করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, হামলার পর চেম্বারের ক্যাশ বাক্স থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার ১৫০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি চেম্বারের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়।
আশিকুর রহমান জানান, হামলার পেছনে চাঁদা দাবির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ এবং এক বছর আগের একটি ঘটনা রয়েছে। তিনি জানান, জুতা দিয়ে মারধরকারি আফরিন রশিদ সেঁজুতি নামের ওই নারী একটি বিড়ালের মৃত বাচ্চার প্রসবকে কেন্দ্র করে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এছাড়া ফেসবুকে অপর এক প্রাণী চিকিৎসককে নিয়ে লেখালেখির পেছনে তার হাত রয়েছে—এমন ভুল সন্দেহ থেকেও এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পাওে বলে তার ধারণা।
ঘটনার সাথে জড়িত সাকিবুল হাসান বলেন, গত ১৭ আগস্ট একটি গর্ভবতী পারশিয়ান বিড়ালকে (নাম স্নো) কেওয়াটখালী ভেটেরিনারি চিকিৎসক আব্দুল হান্নানের কাছে সেঁজুতি রেখে যান পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য। কিন্তু সেখানে বিড়ালটি মারা গেলেও তারা কিছু জানাননি।
বিড়ালের খোঁজখবর নিতে ১৮ আগস্ট কল দিলে তারা জানান, বিড়ালটি মারা গেছে। তিনি জানান, বিড়ালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে লেখালেখি হলে পেট কেয়ারের আশিকুর রহমান ফেক ফেসবুক আইডি থেকে সেঁজুতিকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। যার প্রেক্ষিতে এমনটি ঘটেছে।
desk news 



















