Dhaka ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন এনসিপির জরুরি সংবাদ সম্মেলন সোমবার যুদ্ধের মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে বড় সুখবর দিল ইরান মাদ্রাসাছাত্রীকে ধ র্ষ ণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন ইসলামি বক্তা মিসবাহের ‘১০ নম্বর স্ত্রী’ হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর মীম সিলেটে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৭৩ আসামি গ্রেপ্তার রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব হলেন আবু আউয়াল সিলেটের মেয়ে রুবাইয়ার  ৭৩ লাখ ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ অর্জন শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার এয়ার হোস্টেস থেকে পুলিশ কর্মকর্তা, এবার কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগে বরখাস্ত

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যোগ্য হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত: অমিত শাহ

  • national desk
  • Update Time : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫ Time View

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে বসবাস করা যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শিলিগুড়িতে ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার কালেক্টরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই তালিকায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সরকারের নীতি হবে—অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন। অমিত শাহের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখন সিএএ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও অভিবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোকে ঘিরে রাজ্যটির রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক আহত

শিলিগুড়ি সফরে অমিত শাহ ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইন নিয়েও বক্তব্য দেন। আইন তিনটি হলো—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)। এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা ও পোড়ানো চুড়ির সূত্রে শিক্ষক পরিবারের চার হত্যার রহস্য উদঘাটন

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যোগ্য হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত: অমিত শাহ

Update Time : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে বসবাস করা যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শিলিগুড়িতে ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার কালেক্টরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই তালিকায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সরকারের নীতি হবে—অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন। অমিত শাহের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখন সিএএ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও অভিবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোকে ঘিরে রাজ্যটির রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণে দিক-নির্দেশনা

শিলিগুড়ি সফরে অমিত শাহ ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইন নিয়েও বক্তব্য দেন। আইন তিনটি হলো—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)। এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।