Dhaka ০৫:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক সিলেটের বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের মধ্যে বাউলশিল্পী পেহেলি ভৈরবী ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৯, আহত অর্ধশতাধিক তীব্র সমালোচনার মুখে সরছে কিনব্রিজের ‘আই লাভ সিলেট’ সাইনেজ জুমার দিনের ফজিলত ও রাসুল (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ আমল সিলেটে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ: ‘দি চট্টগ্রাম ডোর অ্যান্ড ফার্নিচার’ সিলগালা সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেলেন নাসিম হোসাইন সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে জামায়াতের আমির ও নাহিদ সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা : প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই সহোদর খালাস সমবায়ের ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের:সাবেক জামায়াত নেতা কারাগারে

সিলেটে সাবেক প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ,বিদেশে পালানোর পাঁয়তারা

**সিলেট:** জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা ইশরাতের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, যোগ্যতা সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক।

অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা বেগম জানান, তিনি জেলা প্রশাসক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফারজানা ইশরাত ২০২০ সালের ৬ আগস্ট প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এমপিও নীতিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসএড ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা সম্পন্ন করেননি। এরপরও দীর্ঘ সময় সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযৌক্তিকভাবে শোকজ প্রদান, শিক্ষক হয়রানি, সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। দাতা সদস্যদের অনুদান, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা নিরপেক্ষ আর্থিক অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

আকলিমা বেগম দাবি করেন, সাবেক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে ফলাফল খারাপ হওয়ার পর বিভাগটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইসিটি ল্যাব, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগও বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকও অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন শিক্ষক প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়া বা প্রশ্নবিদ্ধ সনদের ভিত্তিতে চাকরি করছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি

এ বিষয়ে এডিসি (শিক্ষা) মাসুদ রানা বলেন, ফারজানা ইশরাত চাকরি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তিনি বলেন, নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারজানা ইশরাত বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে যাওয়ার সঙ্গে চাকরি ছাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিএসএড ডিগ্রির বিষয়ে তিনি জানান, ডিগ্রি না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে এক গ্রেড নিচে নামিয়ে বেতন নির্ধারণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ ফেরতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাকে কোনো ধরনের নির্দেশ বা নোটিশ দেওয়া হয়নি।

এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ ২ জন আটক

সিলেটে সাবেক প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ,বিদেশে পালানোর পাঁয়তারা

Update Time : ১২:১২:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

**সিলেট:** জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন পরিচালিত সিলেট ইনক্লুসিভ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা ফারজানা ইশরাতের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, যোগ্যতা সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক।

অভিযোগকারী সহকারী শিক্ষিকা আকলিমা বেগম জানান, তিনি জেলা প্রশাসক, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর তদন্ত বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফারজানা ইশরাত ২০২০ সালের ৬ আগস্ট প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এমপিও নীতিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসএড ডিগ্রি অর্জনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি তা সম্পন্ন করেননি। এরপরও দীর্ঘ সময় সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়া বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অযৌক্তিকভাবে শোকজ প্রদান, শিক্ষক হয়রানি, সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভীতিকর পরিবেশ তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। দাতা সদস্যদের অনুদান, বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন এবং ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা নিরপেক্ষ আর্থিক অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

আকলিমা বেগম দাবি করেন, সাবেক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে ফলাফল খারাপ হওয়ার পর বিভাগটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আইসিটি ল্যাব, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগও বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকও অভিযোগ করেছেন, প্রতিষ্ঠানে আরও কয়েকজন শিক্ষক প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়া বা প্রশ্নবিদ্ধ সনদের ভিত্তিতে চাকরি করছেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ছাত্রীকে একা পেয়ে যা করলেন প্রধান শিক্ষক

এ বিষয়ে এডিসি (শিক্ষা) মাসুদ রানা বলেন, ফারজানা ইশরাত চাকরি চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন। অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে তাদের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। তিনি বলেন, নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতাধীন হওয়ায় তদন্তের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ফারজানা ইশরাত বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত কারণে বিদেশে যাওয়ার সঙ্গে চাকরি ছাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিএসএড ডিগ্রির বিষয়ে তিনি জানান, ডিগ্রি না থাকায় কর্তৃপক্ষ তাকে এক গ্রেড নিচে নামিয়ে বেতন নির্ধারণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ ফেরতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাকে কোনো ধরনের নির্দেশ বা নোটিশ দেওয়া হয়নি।

এদিকে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।