Dhaka ০৭:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনের মৃত্যু আগামী মাসে খুলবে সেন্টমার্টিন, মানতে হবে যেসব নিয়ম সিলেটে থামছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ: আক্রান্ত ৭১১, মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন মাস শেষের আগেই পকেট খালি, সংসার চালাতে ঋণে ডুবছেন চাকরিজীবীরা প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে দলবদ্ধ ধ র্ষ ণের শিকার তরুণী জৈন্তাপুরে এবার ডোবার পাশে ফেরিওয়ালার লা/শ আদর করে ঘুষের নাম ‘অনারিয়াম’ রাখলেন কুমিল্লা মাউশি পরিচালক ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার প্রশ্নে যা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাস্তায় মিলল দেশি কড়ি কাইট্টা, উদ্ধারের পর অবমুক্ত ঋণের টাকা নিয়ে ভাবিকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন দেবর, ভিডিও ভাইরাল

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যোগ্য হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত: অমিত শাহ

  • national desk
  • Update Time : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩০ Time View

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে বসবাস করা যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শিলিগুড়িতে ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার কালেক্টরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই তালিকায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সরকারের নীতি হবে—অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন। অমিত শাহের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখন সিএএ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও অভিবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোকে ঘিরে রাজ্যটির রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাকের চাপায় বিজিবি সদস্য নিহত

শিলিগুড়ি সফরে অমিত শাহ ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইন নিয়েও বক্তব্য দেন। আইন তিনটি হলো—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)। এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পুকুরে গোসল করতে নেমে দুই বোনের মৃত্যু

ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যোগ্য হিন্দু-শিখ-জৈনদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত: অমিত শাহ

Update Time : ০১:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়ে বসবাস করা যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

শিলিগুড়িতে ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইনের ওপর আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

অমিত শাহ বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য পশ্চিমবঙ্গের আটটি জেলার কালেক্টরকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ফলে আবেদনগুলো দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে যারা বাধ্য হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের মধ্যে যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের মর্যাদার সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই তালিকায় হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, সরকারের নীতি হবে—অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করা।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিএএ-বিরোধী অবস্থানের সমালোচনা করেন। অমিত শাহের দাবি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় এখন সিএএ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের বাধা থাকবে না।

বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও অভিবাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিএএ বাস্তবায়ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোকে ঘিরে রাজ্যটির রাজনীতিতে এ নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাকের চাপায় বিজিবি সদস্য নিহত

শিলিগুড়ি সফরে অমিত শাহ ভারতের নতুন তিন ফৌজদারি আইন নিয়েও বক্তব্য দেন। আইন তিনটি হলো—ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (বিএসএ)। এসব আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতেই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।