
সিলেট রেলস্টেশনে অনলাইনে অবৈধভাবে রেলের টিকিট সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে আটক করেছে জেলা প্রশাসন। এ সময় তাদের কাছ থেকে অসংখ্য রেলের টিকিট ও টিকিট সংগ্রহে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন—সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মজলিসপুর এলাকার সঞ্জীব দাসের ছেলে সজীব দাস সঞ্জয় এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জলিলপুর এলাকার মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. আবু তাহের। তারা দুজনই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে রেলওয়ে থানা পুলিশ, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিলেট রেলস্টেশন এলাকায় রেলের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের একপর্যায়ে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে অবৈধভাবে রেলের টিকিট সংগ্রহ, টিকিট ডাউনলোড এবং পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের রেলের টিকিট পাওয়া যায়। পাশাপাশি টিকিট সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
আরএনবির সদস্য হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন
অভিযানে আটক দুই ব্যক্তি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। রেলওয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও রেলওয়ের সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি টিকিট কালোবাজারির মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আটক ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
জব্দ করা হয়েছে টিকিট ও মোবাইল ফোন
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া রেলের টিকিট ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব মোবাইল ফোনে টিকিট ক্রয়, ডাউনলোড কিংবা বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি তদন্তের জন্য আটক দুজনকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
টিকিট কালোবাজারি বন্ধে অভিযান
রেলের টিকিট কালোবাজারি দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের জন্য একটি বড় সমস্যা। অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরও বিভিন্ন সময় একটি শ্রেণির ব্যক্তি কৌশলে টিকিট সংগ্রহ করে পরে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে।
বিশেষ করে ঈদ, সরকারি ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা বিভিন্ন উৎসবের সময় রেলের টিকিটের চাহিদা বেড়ে গেলে কালোবাজারির তৎপরতাও বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীরা নির্ধারিত মূল্যে টিকিট না পেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হন।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটে রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্টেশন এলাকায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
কয়েক দিনের মধ্যে কালোবাজারি কমবে: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল আলম বলেন, রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মো. রাকিবুল আলম আরও বলেন, ‘রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেটে রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।’
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেলের টিকিট নিয়ে অনিয়ম কিংবা কালোবাজারির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদেরও অনুমোদিত মাধ্যম ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে টিকিট না কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আটক দুই আরএনবি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে তারা টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে কীভাবে এবং কতটা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
সিলেট প্রতিনিধি 


















